সুজন বড়ুয়ার সাথে প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়ার আর্থিক লেনদেন ছিল। এ লেনদেনের কিছু কাগজপত্র ছিল সুজনের ঘরে। টাকার জন্য সম্পর্ক নষ্ট, অর্থ অনর্থের মূল; সুজনের সাথে এ নিয়ে শুরু হয় বিরোধ। সম্পর্ক ছেদ। ক্রমশঃ সম্পর্কগুলো হারিয়ে যায়। স্বার্থের কাছে মাথা নোয়ায় ভ্রাতৃত্ব। পারিবারিক বিবাদ রূপ নেয় হামলা সংঘর্ষে। ঘটে হত্যার মত অপরাধ। অকালে হারিয়ে যায় জীবন।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র নাম উঠে এসেছে। নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়ার দাবি, মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী হামলাকারী হিসেবে লিমনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল। তার ধারণা, ওই লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্রের খোঁজে বাড়িতে এসে সে হামলা করতে পারে।
সুজন বড়ুয়া বলেন, আমি শহরে ছিলাম। রাতে বড় ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন, এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। আহত শিশুটির নাম পিয়াস বড়ুয়া (৫)।
তাদের বাড়ি চেনামতি বড়ুয়া পাড়া বৌদ্ধবিহার মন্দির সংলগ্ন এলাকায়। জানা গেছে, পরিবারের কর্তা ব্যক্তি সুজন বড়ুয়া। তিনি চট্টগ্রাম নগরের খাতুনগঞ্জ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত।
প্রতিবেশী সুরভী বড়ুয়া জানান, রাতে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গিয়ে দেখা যায়, ঘরের দরজার সামনে এনি বড়ুয়া ও তার ছেলে পিয়াস রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ঘরের ভেতরে পাওয়া যায় প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার রক্তাক্ত দেহ।
স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে ঘটনাস্থলেই এনি বড়ুয়ার মৃত্যু হয়। আহত পিয়াসকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন এবং এক শিশু আহত হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
পূর্বতারা/ইউডি