বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

খাগড়াছড়িতে শহরের বুকেই পাখিদের নিরাপদ ঠিকানা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০১:২১

খাগড়াছড়ি শহরের ভেতরে বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কার্যালয়ের আঙিনায় গড়ে উঠেছে টিয়া পাখির একটি নিরাপদ আবাসস্থল। যা এখন স্থানীয়ভাবে প্রাণবৈচিত্র্যের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে একই এলাকায় টিয়া পাখিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বসবাস অব্যাহত থাকলেও বন বিভাগের কঠোর নজরদারির কারণে তাদের কেউ শিকার বা বিরক্ত করতে পারে না।

প্রায় সাড়ে তিন একর বনভূমি নিয়ে গঠিত এই কার্যালয় প্রাঙ্গণটি ধীরে ধীরে টিয়া পাখি ছাড়াও মুখপোড়া হনুমান, বানর, গুইসাপসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত মদনা বা লাল বুক টিয়া এখানে বড় ঝাঁকে বসবাস করছে।

পাখিদের খাদ্য নিশ্চিত করতে সম্প্রতি জাম, বট, পেয়ারা, ডেউয়া ও অন্যান্য প্রজাতির গাছ রোপণ করেছে বন বিভাগ। প্রজনন মৌসুম শেষে বর্তমানে পাখির সংখ্যা কিছুটা কম দেখা গেলেও বছরের অন্যান্য সময়ে প্রতিটি গাছে তাদের ঝাঁক দেখা যায়। ভোরে খাবারের সন্ধানে বের হলেও সন্ধ্যার আগে তারা আবার নিজ আবাসে ফিরে আসে।

স্থানীয়রা জানান, এলাকায় জনবসতি থাকলেও পাখিদের কেউ বিরক্ত করে না, বরং তাদের কিচিরমিচির শব্দ প্রতিদিন দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী ও প্রকৃতি সংরক্ষণকর্মী সমীর মল্লিক বলেন, একসময় পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ৫০০ প্রজাতির পাখি দেখা যেত, যা এখন অনেকটাই কমে গেছে। তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খাগড়াছড়ি সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এস. এম. মোশাররফ হোসেন জানান, পাখিদের নিরাপদ আবাস ও খাদ্য নিশ্চিত করতে চলতি বছর বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিয়া বলেন, বনায়ন ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে এই অঞ্চলে বন্যপ্রাণীর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মুখপোড়া হনুমান, লজ্জাবতী বানর, মেছোবাঘ, গুইসাপ, তক্ষক, বনমোরগসহ বহু বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী এখন খাগড়াছড়ির বনাঞ্চলে দেখা যাচ্ছে। শিকার ও পাচার রোধে বন বিভাগ কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।

ভিডিও