মৌসুমী ফলের মধ্যে রসালো আমের জুড়ি নেই। সুস্বাদু ও প্রিয় এই ফল ঘিরে লোহাগাড়ার চুনতি ইউনিয়নের মিরিখীল এলাকার মাওলানা পাড়ায় গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী এক আম বাগান। যেখানে একসঙ্গে শোভা পাচ্ছে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম।
এক সময় গ্রামীণ জনপদের বসতভিটায় দেশীয় নানা জাতের আমগাছ থাকলেও নগরায়ন ও আধুনিক অবকাঠামো বিস্তারের ফলে এসব গাছ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তবে চুনতির ফরিদুল আলম সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে গড়ে তুলেছেন বহুমাত্রিক আমের বাগান।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের মে মাসে একটি টিলাভূমিতে বাগান গড়ার উদ্যোগ নেন। গাজীপুর কৃষি নার্সারি থেকে দেশি ও বিদেশি উন্নত জাতের আমচারা সংগ্রহ করে প্রথমে প্রায় ২০০টি চারা রোপণ করেন। পরে তা বাড়িয়ে বর্তমানে তিন শতাধিক গাছে পরিণত হয়েছে।
বাগানে থাকা জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে হাঁড়িভাঙ্গা, ল্যাংড়া, আম্রপালি, হিমসাগর, গৌরমতি, বারি-৪, কিউজাই, চিয়াংমাই, হানিডিউ, থ্রিটেক্ট, ব্রুনাই কিং, ব্যানানা ম্যাংগো, রেড পালমার, আলফানসো, মিয়াজাকি, ন্যাম ডকমাইসহ বিভিন্ন বিদেশি জাতের আম।
ফরিদুল আলম বলেন, তিনি মূলত একজন ব্যবসায়ী হলেও প্রকৃতিপ্রেম থেকেই এই বাগান গড়ে তুলেছেন। প্রথম ফলনেই গাছে প্রচুর আম এসেছে। প্রতি কেজি আম বর্তমানে প্রায় ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অধিকাংশ আম তিনি আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের মাঝে উপহার হিসেবে বিতরণ করেছেন।
তিনি আরও জানান, এ মৌসুমে বাগান পরিচর্যায় প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। কীটনাশক, সার ও অন্যান্য পরিচর্যায় নিয়মিত কাজ করতে হচ্ছে। তবে পোকামাকড় ও বন্য প্রাণীর আক্রমণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে বাগান সম্প্রসারণ করলে লাভবান হওয়ার আশা রয়েছে তাঁর।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম বলেন, উপজেলায় প্রায় ১২১ হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন জাতের উন্নত আম উৎপাদনে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।