বালা-মুসিবত যেন পিছু ছাড়ছে না চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের। এতদিন তিনি আলোচনায় ছিলেন এনসিপি কানেকশন ইস্যুতে। ওই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তাকে ট্যাগ করা হলো আওয়ামী আসামির তালিকায়। ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সভা ও মিছিলের ঘটনায় শুক্রবার (৫জুন) পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। ওই মামলায় মনজুর আলমকেও আসামি করা হয়েছে।
মনজুর আলম প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা। তবে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে করা মামলায় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের নামা থাকায় রাজনৈতিক মহলে নতুন সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
মনজুরকে সিটি নির্বাচন থেকে নিষ্পৃহ করা এবং আওয়ামী ট্যাগ লাগাতেই মামলাটিতে তাকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে মনজুর আলমের ছোট ছেলে মোহাম্মদ ফারুক আজম অভিযোগে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া গেছে। তার অভিযোগ, এই ধরনের মামলা কি শুধুই পুলিশের একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া, নাকি কোনো প্রভাবশালী মহলের ইশারায় সম্ভাব্য একজন শক্তিশালী প্রার্থীকে শুরুতেই মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল ?
তিনি আরও বলেন, মামলাটির এজাহারের শেষ দিকে আবার বলা হয়েছে, সাবেক মেয়রসহ চার আসামির হুকুমে ও তত্ত্বাবধানে এই মশাল মিছিল হয়েছে। প্রথম কথা হচ্ছে, মশাল মিছিল যদি হয়ে থাকে, তাহলে উনি (মনজুর আলম) সেখানে ছিলেন কি না ? দ্বিতীয়ত, মিছিলে থাকার মতো ওনার বয়স আছে কি না। তাহলে কেন তাঁকে আসামি করা হলো?
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভা ও মিছিলের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। গ্রেফতার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ফটিকছড়ি রোসাঙ্গিরি এলাকার একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ‘বিশ্রামাগারে’ ফটিকছড়ি উপজেলা শাখা সভা আয়োজন করে। সভার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার রাতে ফটিকছড়ি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করে।মামলায় চসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম, ফটিকছড়ির সাবেক সাংসদ খাদিজাতুল আনোয়ারসহ ২৯ জন নামভুক্ত আসামি। অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮০–৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে রোসাঙ্গিরি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমনগর এলাকায় নাজিরহাট–মাইজভাণ্ডার পাকা সড়কে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা মশাল হাতে একটি মিছিল বের করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে থাকা ব্যক্তিরা মশাল ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মো. জামান বাবু (২৩) ও সাইফুল ইসলামকে (২৫) গ্রেফতার করে। বাকিরা পালিয়ে যান।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক মেয়র ও সাবেক সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় তাঁরা জড়ো হন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা জানিয়েছেন। তাঁরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা, রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে চারটি বাঁশের তৈরি মশাল জব্দ করা হয়।
পূর্বতারা/ইউডি