চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য এবার নতুন একটি দেশি জোট প্রস্তাব দিয়েছে। এই জোটটি গত ২৮ এপ্রিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব জমা দেয়। তবে বিষয়টি সম্প্রতি সামনে আসে।
জানা গেছে, জোটের নেতৃত্বে রয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড, সঙ্গে রয়েছে কসমস এন্টারপ্রাইজ ও এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেড। একই দিন দেশীয় প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপও একই টার্মিনাল পরিচালনায় প্রস্তাব জমা দেয়।
প্রস্তাব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কসমস এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান হলেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সরকার দলের সংসদ সদস্য ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। অপরদিকে এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন সেলিম লক্ষ্মীপুর-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য।
এর আগে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্তের দিকে এগিয়েছিল। তাই আগ্রহ থাকা স্বত্বেও অনেকে প্রস্তাব জমা দেয়নি। তবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান এনসিটির কাজ পেতে মরিয়া। ধারাবাহিকভাবে এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দিয়ে আসছে মন্ত্রণালয়ে। এতে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বৃহত্তম এই টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। শেষ পর্যন্ত দেশীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে এনসিটি পরিচালনার ভার যাচ্ছে কিনা তা নিয়েও নানামুখী আলোচনা চলছে।
এ ব্যাপারে জানতে তিন সদস্যের জোটের অংশ হিসাবে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, বন্দরের স্বার্থে এবং দেশের স্বার্থে আমরা এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছি।
সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন বলেন, জোটের তিন প্রতিষ্ঠানেরই বন্দরে দুই থেকে সাড়ে তিন দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলে দেশের টাকা দেশেই থাকবে।
এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন বলেন, বন্দরের বিদ্যমান বিধিবিধান ও সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী চালু টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সুযোগ নেই। বরং দেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নতুন জোট এই টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
এদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকায় নতুন প্রস্তাব এখনই বিবেচনার সুযোগ নেই। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে।