পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জাল নোট ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোরবানির পশুর হাট ও ঈদবাজারে বাড়তি নগদ লেনদেনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল টাকা চক্র। সম্প্রতি নগরীর হামজারবাগ ও হাটহাজারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকার জাল নোটসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে র্যাব।
গ্রেফতারের পর জাল টাকা চক্র নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে জাল নোট, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা ঠেকাতে এবং মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিতে সজাগ রয়েছে আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেইসাথে মানুষকে বাড়তি সচেতনতা অবলম্বনের পরামর্শও দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে জাল টাকা তৈরি করা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে গেছে। সাধারণ প্রিন্টার, উন্নত গ্রাফিক্স সফটওয়্যার ও অনলাইন টিউটোরিয়াল ব্যবহার করে চক্রগুলো খুব সহজেই নিখুঁত জাল নোট তৈরি করছে। আগে এক লাখ টাকার জাল নোট তৈরি করতে কয়েক হাজার টাকা খরচ হতো, এখন তা অর্ধেকেরও কম খরচে সম্ভব হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোরবানির পশুর হাটে টাকার নগদ লেনদেন হয়। দ্রুত টাকা গুনে লেনদেন করার কারণে অনেক সময় বিক্রেতারা নোট যাচাইয়ের সুযোগ পান না। এই সুযোগে আসল নোটের সঙ্গে কয়েকটি জাল নোট গুঁজে দিয়ে প্রতারণা করে চক্রের সদস্যরা। বিশেষ করে গ্রামের হাট, অস্থায়ী বাজার ও রাতের বেচাকেনায় এ ঝুঁকি বেশি থাকে।
এদিকে চট্টগ্রামের গরুর বাজারে সব ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এবং জেলা পুলিশ। সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, প্রতিটি পশুর হাটে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ, কন্ট্রোল রুম ও সাদা পোশাকে নজরদারি থাকবে। জাল টাকা শনাক্তে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোনো অসাধু চক্র যাতে পশুর হাটকে কেন্দ্র করে প্রতারণা, চাঁদাবাজি বা জাল নোট ছড়িয়ে দিতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক নির্দিষ্ট হাটে নেওয়া কিংবা অনুমোদনহীন হাট বসানোর চেষ্টাও কঠোরভাবে দমন করা হবে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ঈদ ঘিরে জাল নোট চক্র, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মহাসড়ক, পশুর হাট ও গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে। জাল নোট শনাক্তে ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষকে বড় অঙ্কের লেনদেনের সময় সতর্ক থাকতে হবে। সন্দেহজনক নোট পেলে দ্রুত নিকটস্থ থানা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।