,

 

‘গ্যাসও নাই, কারেন্টও নাই’

উজ্জ্বল দত্ত

প্রকাশ : 4 August 2026, 04:07

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটের সাথে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং) বিড়ম্বনা। এতে করে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। আবাসন, যোগাযোগ, উৎপাদন শিল্পখাত, অফিস-আদালত সবখানে বিপর্যস্ত অবস্থা বিরাজ করছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জি কোম্পানির এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতি এখনো সারানো যায়নি। বর্তমানে বিকল্প টার্মিনাল থেকে সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। যার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি। এতে করে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে গ্যাসের সংকট চলছে। গ্যাসের এই প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতেও। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন কমে গেছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট দৈনিক চাহিদার বিপরীতে সোমবার সরবরাহ ছিল মাত্র ১৯৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১৯২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।

কেজিডিসিএল উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ, উত্তর) রফিক খান বলেন, ‘মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালে ক্রটি সারানোর কাজ চলছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সুখবর পাওয়া যেতে বলে জেনেছি। তবে চট্টগ্রামের বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে গিয়ে আবাসিক, সিএনজি ফিলিং স্টেশনে আমাদেরকে সরবরাহ কমিয়ে দিতে হচ্ছে। যার কারণে আবাসিক ও সংশ্লিষ্ট সেক্টরে গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়েছে।’

এদিকে, গ্যাসের সাথে পাল্লা দিয়ে চট্টগ্রামে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং বিড়ম্বনা।

নগরীর বহদ্দার হাট খতিবের হাট এলাকার বাসিন্দা হুমায়রা বেগমের কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, একদিকে গ্যাস নাই বাসায়। সকাল ৮টায় চলে যায়। বিকেল ৫ টার পর একটু করে আসে। টিম টিম করে চুলা জ্বলে। ২০ মিনিটের রান্না করতে দুই ঘণ্টা লাগে। রাত ১২টার প্রেসারে গ্যাস আসে।

তিনি যুক্ত করেন, এই অবস্থায় ঘন ঘন চলে যাচ্ছে কারেন্ট (বিদ্যুৎ)। দিনে সাত আট বার কারেন্ট চলে যায়। একবার গেলে এক থেকে দেড় ঘণ্টায় আসে না। গ্যাসের কারণে রান্নাও ঠিকমতো করতে পারছি না। অন্তত বিদ্যুৎ থাকলে বিকল্প কিছু করা যেত। সেটিও পারছি না। এমন অবস্থা আগে কখনো দেখি নাই।

লোডশেডিং পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ দক্ষিণাঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল পূর্ব) অশোক কুমার চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা দৈনিক ১ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া গেছে ৯৫০ মেগাওয়াট। ঘাটতি রয়েছে ৩০০ মেগাওয়াট। এই কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। তবে গ্যাসের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে- এমনটা পুরোপুরি সঠিক নয়। কেননা গ্যাসচালিত উৎপাদন কেন্দ্রের পাশাপাশি অন্য জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন চলমান রয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে সবখানে ব্যালেন্স করে ডিস্ট্রিবিউশন করতে হচ্ছে।‘

পূর্বতারা

ভিডিও