চট্টগ্রামের পটিয়ায় পুকুর সংস্কারের আড়ালে প্রকাশ্যে চলছে মাটি বিক্রির মহোৎসব। দিনের পাশাপাশি রাতেও স্ক্যাভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে ফসলি জমি ও পুকুরের মাটি। দীর্ঘদিন ধরে আইনের তোয়াক্কা না করে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ উঠলেও কার্যকরভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না এই অবৈধ কর্মকাণ্ড।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে মাটি খেকোদের পৃথক সিন্ডিকেট। তাদের দাপটে সাধারণ মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম মাটি কাটা বন্ধে হুঁশিয়ারি দিলেও তা মানছেন না সংশ্লিষ্টরা।
মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে গত ১১ মে উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে কৌশলে পুকুর সংস্কারের অনুমতি নিয়ে সেই সুযোগে অবাধে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি ছাড়াই রাতে স্ক্যাভেটর দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে পাচার করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পটিয়ার ধলঘাট, কেলিশহর, হাইদগাঁও, মুজাফরাবাদ, শোভনদণ্ডী, খরনা, বড়লিয়া, আশিয়া ও কাশিয়াইশ ইউনিয়নে চলছে মাটি কাটার উৎসব। শর্তসাপেক্ষে পুকুর সংস্কারের অনুমতি নেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না সেই শর্ত।
জানা গেছে, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া মাটি উত্তোলন ও বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ক্ষেত্রে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০’ এবং ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩’ প্রযোজ্য। কৃষিজমি বা পরিবেশের ক্ষতি করে মাটি বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এসব বিষয়ে ধলঘাট ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, পুকুর সংস্কারের অনুমতি নিয়ে শর্ত ভঙ্গ করে মাটি বিক্রির সত্যতা পাওয়া গেছে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আগের তুলনায় মাটি কাটা কিছুটা কমেছে বলে মনে করি।