অবশেষে হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিস একসূত্রে ! নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটভুক্ত হওয়ায় খেলাফত মজলিস ও সম্পর্কিত দলগুলোর ওপর রীতিমত ক্ষুব্ধ ছিল হেফাজতে ইসলাম। ইতোপূর্বে হেফাজতের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী এ নিয়ে উষ্মাও প্রকাশ করেছেন। একদিকে হেফাজতের সঙ্গে থাকা অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে জোট- এমন দলগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরিকল্পনাও নিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। দলগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংগঠনটি ইতোমধ্যে একটি উপকমিটিও গঠন করে ফেলেছে।
তবে এমন পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান পরিস্কার করতে হেফাজত আমিরের সাথে বৈঠক করেছেন খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি আবার হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবও।
রবিবার (১৭ মে) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িস্থ জামিয়া বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজত আমিরের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত চলা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন নেতারা।
জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মামুনুল বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামে কোনো প্লাস-মাইনাস নেই, এসব কথা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র। আকিদার প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’
জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটের ব্যাখ্যা দিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘খেলাফত মজলিস একটি রাজনৈতিক দল, আর হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক আকিদাভিত্তিক সংগঠন। রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে আমরা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ১১ দলীয় জোট করেছি। সেটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ঐকমত্য। কিন্তু আকিদার জায়গায় হেফাজত এক ও অভিন্ন। এখানে কোনো আপস নেই।’
হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীও সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভেদের গুঞ্জন নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘হেফাজতে কোনো বিভেদ নেই। ইসলাম রক্ষার প্রশ্নে আমরা সবাই এক এবং ঐক্যবদ্ধ আছি।’
বৈঠকে নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক, আল্লামা শাহ সালাউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসীম উদ্দিন, আল্লামা আইয়ুব বাবুনগরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আল্লামা বশিরুল্লাহ, মাওলানা আতা উল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বতারা/ইউডি