গরমে অতিষ্ঠ জনজীবনে স্বস্তি দিতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বিভিন্ন হাট-বাজার ও স্টেশন এলাকায় কচি তালের শাঁস কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। মৌসুমি এ ফলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জমে উঠেছে বেচাকেনা। বিশেষ করে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের কাছে কচি তাল এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
শনিবার (১৬ মে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সদর বটতলী মোটর স্টেশনসহ বিভিন্ন জনাকীর্ণ এলাকায় ভাসমান দোকান বসিয়ে বিক্রি হচ্ছে কচি তালদানা। কেউ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শাঁস খাচ্ছেন, আবার কেউ পরিবারের জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, কাঁচা ও পাকা—দুই ধরনের তালই মানুষের কাছে প্রিয়। পাকা তালের রস দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের পিঠাপুলি। আর গরমের সময় কচি তালের শাঁস শরীরে প্রশান্তি এনে দেয় বলে এর চাহিদা বেড়ে যায়।
উপজেলায় তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত তাল পাওয়া যায় না। তাই ব্যবসায়ীরা দূর-দূরান্ত এলাকা থেকে কচি তাল সংগ্রহ করে এনে বিক্রি করছেন। অনেক ফেরিওয়ালাকে ভ্যানগাড়িতে করেও বিভিন্ন এলাকায় তালদানা বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বটতলী মোটর স্টেশনের ভাসমান বিক্রেতা নুরুল কবির জানান, তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বিভিন্ন মৌসুমি ফল বিক্রি করছেন। বর্তমানে বদরখালীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তালদানা সংগ্রহ করে এনে বিক্রি করছেন। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এ বছর দাম কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতাদের চাহিদা ভালো রয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে প্রতি পিস তাল আকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরম বেশি থাকায় ক্রেতাও অনেক।
আরেক বিক্রেতা মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, আমরা প্রতি শত তালদ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় কিনে আনছি। তারপর খুচরা আকারে মানুষের কাছে বিক্রি করছি। গরম বাড়ার সাথে সাথে বেচাকেনা বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
ক্রেতারা বলছেন, গরমে তালের শাঁস শরীরে প্রশান্তি দেয়। হাতের নাগালে এ মৌসুমি ফল পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের জন্য কিনে নিতে পারছেন তারা।