বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্ট, চট্টগ্রাম মহানগর

একদিকে নতুন কমিটি, অন্যদিকে একযোগে পদত্যাগ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০৫:১৪

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন ঘোষিত ১৬৮ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক হয়েছেন মীর মোহাম্মদ শোয়াইব ও সদস্যসচিব হয়েছেন আরিফ মঈনুদ্দিন। তবে নবগঠিত এই কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কমিটিরই একটি অংশ। এমনকি আহবায়ক ও সদস্যসচিবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি,নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে বলেও তাদের দাবি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কমিটির প্রায় ২২ নেতা একযোগে পদত্যাগের করেছেন।

কমিটিতে দপ্তর সম্পাদকের পদ পাওয়া মোহাম্মদ রাফসান জানি বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমের কাছে তার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি করে বলেন, আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা চট্টগ্রাম মহানগরে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাফসান জানির নেতৃত্বে কমিটিতে স্থান পাওয়া বিভিন্ন পদধারী ২২ নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে যুগ্ম আহবায়ক ২ জন, যুগ্ম সদস্যসচিব ৫ জন, সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক ১ জন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ৯ জন, সমাজকল্যাণ ১ জন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ১ জন, সদস্য ২ জন । আজ শুক্রবার পদত্যাগ পত্র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে স্থান পাওয়া হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ বলেন, আহবায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বা পরবর্তী কোনো আন্দোলনে ছিলেন না। এ ভদ্রলোক যদি কোনো ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আমরা সমস্ত অভিযোগ তুলে নেব।

‘‘আরিফ মঈনুদ্দিন যখন চট্টগ্রাম মহানগরের আহবায়ক ছিলেন তখন তার বিরুদ্ধে অসংখ্য চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে এমন একজন আসছেন, যাকে নারী শ্লীলতাহানির অভিযোগে কেন্দ্র থেকে সরাসরি বহিস্কার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি নিজের ফেসবুক পোস্টে এনসিপির সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন বলে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।’’

হুজ্জাতুল আরও বলেন, এমন একজন ব্যক্তি পদ পেয়েছেন যে ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে জেল খেটেছে। যুগ্ম আহবায়ক ও যুগ্ম সদস্যসচিবে এমন অনেকেই রয়েছেন, যারা কখনো এনসিপির আন্দোলন সংগ্রাম বা কর্মসূচিতে ছিলেন না। এককথায় অযোগ্য ব্যক্তিদেরকে কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে। তাদের সাথে তো কাজ করা যায় না।

চট্টগ্রাম মহানগরে দলের নতুন এই কমিটি গঠন নিয়ে এনসিপির সদস্যসচিব ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম সুজা উদ্দিন বলেন, ৪১ ওয়ার্ডের সংগঠকদের নিয়ে প্রায় ১ হাজার সংগঠকের বাছাইকৃত তথ্য নিয়ে মহানগর কমিটি গঠিত হয়েছে। যেকোনো কমিটি ঘোষণার পর নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পদ না পেয়ে অনেকে নানা অভিযোগ করে থাকে। কমিটি নিয়ে মারামারিও হয়। তবে এনসিপি সে রকম দল নয়। আমাদের কমিটির ১৬৮ জনের মধ্যে ৩-৪ জন অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। ১ হাজার জনের সবাইকে তো পদ দেওয়া সম্ভব নয়। সেই জায়গা থেকে অসন্তোষ থাকতে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় (রূপায়ন ট্রেড সেন্টার, বাংলামোটর, ঢাকা) থেকে এই সাংগঠনিক নির্দেশ জারি করা হয়। আগামী ৬ মাসের জন্য এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও