শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

হামে বিপর্যস্ত কক্সবাজার, শয্যা সংকটে মেঝেতে চলছে চিকিৎসা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ১০:৫৫

কক্সবাজারে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে হাম। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জেলা সদর হাসপাতালের ২০ শয্যার বিশেষ ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে’ সোমবার ভর্তি ছিল ৮৭ শিশু। জায়গা সংকটে অনেক শিশুকেই মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কখনো কখনো রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে গত ৪০ দিনে জেলায় মারা গেছে ১৭ শিশু।

সোমবার (১১ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে’ একটি বেডে ঠাঁই হয়েছে ২ থেকে ৪ শিশুর। কোথাও মেঝেতে, কোথাও স্বজনের কোলেই চলছে চিকিৎসা। অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে ওয়ার্ডজুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।

রামু থেকে আসা হাম আক্রান্ত শিশুর অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা অত্যন্ত কম। প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নেবুলাইজার মেশিনেরও সংকট রয়েছে। বাধ্য হয়ে নিজের সন্তানের চিকিৎসার জন্য নতুন একটি নেবুলাইজার মেশিন কিনে এনেছি।

হামে আক্রান্ত আরেক শিশুর বাবা জয়নাল আবেদীন অভিযোগ করে বলেন, আমার সন্তান তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। প্রয়োজনের সময় নার্সদের ডাকলেও সহায়তার বদলে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। তবে ২০ বেডের বিপরীতে বর্তমানে ৮৭ জন শিশু ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় চরম চাপ তৈরি হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়লেও তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। এক শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১ জন মেডিকেল অফিসার, ২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ৬ জন নার্স।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শান্তনু ঘোষ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৩ জন। বর্তমানে ওয়ার্ডে মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার, দুইজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ছয়জন নার্স দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া গেলে রোগীদের আরও ভালোভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। সংকটের মধ্যেও চিকিৎসক ও নার্সরা ২৪ ঘণ্টা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৭৮৮ জন। এর মধ্যে ৪২৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৯ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। গত ৪০ দিনে জেলায় মারা গেছে ১৭ শিশু।

ভিডিও