শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

হামের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে নিঃস্ব নিম্নবিত্ত পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ০১:০৪

চট্টগ্রাম নগরের ঘনবসতিপূর্ণ অনেক এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব এখন নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী পরিবারগুলোর শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে। একদিকে সন্তানের চিকিৎসা, অন্যদিকে আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করিডোরে কেটে যাচ্ছে রিকশাচালক নুরুল আলমের দিন। তার তিন বছর বয়সী সন্তান পাঁচ দিন ধরে ভর্তি। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে তিনি ধারদেনা করেছেন, থেমে গেছে তার রোজগারও। “সন্তানের অসুখে আমি নিজেই এখন অসহায়,”—বললেন তিনি।

একই বাস্তবতা সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ তসলিমউদ্দিনের ক্ষেত্রেও। দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে সন্তানের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সংসারের একমাত্র সম্বল গরুটিও বিক্রি করতে হয়েছে তাকে। এখন চিকিৎসার খরচ আর ঋণের চাপ মিলিয়ে তিনি দিশেহারা।

গার্মেন্টস কর্মী রাকিবের পরিবারেও চলছে একই যুদ্ধ। তার দুই সন্তানই হাসপাতালে ভর্তি। এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় করেও সন্তানের সুস্থতা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না তিনি। প্রতিদিনের হাসপাতালের খরচ আর অনিশ্চয়তা তাকে আরও গভীর সংকটে ফেলেছে।

চমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মম মুসা মিয়া বলেন, ঘনবসতি, পুষ্টিহীনতা এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হামের বিস্তারকে সহজ করে তুলছে। বিশেষ করে দরিদ্র এলাকায় শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ডা. সুশান্ত বড়ুয়া বলেন, শুধু চিকিৎসা নয়—এ ধরনের প্রাদুর্ভাব রোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জরুরি। টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ১৪৩ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ হাজার ৮৫৭ জন এবং বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে ২৮৬ জন। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১১ শিশু এবং হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৩ শিশু।

ভিডিও