সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর কাতালগঞ্জে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে অল্প বৃষ্টিতে সড়ক ও আবাসিক গলিতে পানি জমে যায়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর পাঁচলইশের কাতালগঞ্জ এলাকার সড়ক ও আশপাশের অলিগলিতে পানি জমে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকাটি তুলনামূলক নিচু হওয়ায় এবং নালা-নর্দমা ও খালগুলোর পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাশের খাল ও ড্রেনগুলোতে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা, বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ চলমান থাকা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দীন বলেন, এখানে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। তখন চলাচলে খুব কষ্ট হয়। নালাগুলো পরিষ্কার থাকলে পানি দ্রুত নেমে যেত।
আরেক বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, বর্ষা মৌসুম তো এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। অল্প বৃষ্টিতেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে ভারী বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীরর জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে সিডিএ এবং সিটি কর্পোরেশন। ইতিমধ্যে অনেকগুলো খাল খনন সম্পূর্ণ হয়েছে এবং আরও কয়েকটির কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নগরীর জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব বৃহস্পতিবার হণমাধ্যমকে বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা এখনও পুরোপুরি যায়নি। টানা ভারী বৃষ্টি হলে এখনও নগরের কিছু জায়গায় পানি জমে থাকে। নগরীর এই জলাবদ্ধতা সমস্যা পুরোপুরি নিরসনে এবং খালগুলোকে স্থায়ীভাবে সচল রাখতে আমরা কাজ করছি।
এদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেছেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আরও পাঁচটি খালের কাজ প্রায় ৬৮ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি কাজও শেষ হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি বর্ষা মৌসুম থেকেই নগরবাসী প্রকল্পটির ইতিবাচক প্রভাব দেখতে পাবে।