সারাবছর বলতে গেলে গরুর মাংসের বাজার মন্দা। বাজারে ৮৫০ টাকা থেকে হাজার টাকা দামে বিক্রি হয় গরুর মাংস। উচ্চমূল্যের এমন পরিস্থিতিতে ভোক্তারা গরুর মাংস খাওয়াই ভুলে গেছেন বলা যায়। চাহিদা সীমিত থাকায় এগ্রো ব্যবসায়ীদেরও যাচ্ছে মন্দ সময়। গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি ভর্তুকি না পাওয়া, মাংসের কম দাম, বাজারে মাংসের চাহিদা কম- সব মিলিয়ে এগ্রো ব্যবসায়ীরা খামার চালাতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে এগ্রো ব্যবসায়ীদের ভরসা কোরবানির বাজার। কোরবানির বাজারের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সবাই।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, কোরবানির তাকওয়া নিয়তে রেখে সবাই কোরবানির পশু কিনে থাকেন। সেক্ষেত্রে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাজার পরিস্থিতি একটু ভিন্ন থাকে। পশুর চাহিদাও থাকে অনেক বেশি।
‘ কোরবানির বাজারে অনেক পশুর চাহিদা থাকে। সারা বছর যে পশু কোরবানি হয়। তার তুলনায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ পশু কোরবানি হয় ঈদুল আযহায়। প্রচুর চাহিদার কথা মাথায় রেখে এগ্রো ব্যবসায়ীরা ফার্মিংয়ের প্রস্তুতি নেন। কেননা একটা গরু বড় করতে আমাদের অনেকদিন সময় লাগে। এর পেছনে খরচও অনেক। ‘- এমনটাই ভাষ্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মালিক মো. ওমর।
তিনি বলেন, ডেইরি থেকে বাছুর আমরা সংগ্রহ করি। তার পেছনে খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান ও ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে আমাদেরকে বড় বাজেটের পরিকল্পনা করতে হয়। গরুগুলো লালন পালনের জন্য শ্রমিকদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। আপনি যদি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে লালন পালন না করেন তাহলে লোকসানের মুখে পড়বেন। আবার গরুর মাংসের চাহিদা খুবই সীমিত। তাই ব্যবসায়ীরা কোরবানকে টার্গেট করে খামারে গরু তুলেন।’
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন এলাকার খামারি মো. রুবেল বলেন, গত ৫ বছরে গোখাদ্যের দাম ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ওষুধ ও অন্যান্য খরচও বেড়েছে। শ্রমিকের বেতন মাসে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা। সবকিছুর পড়তা পড়ছে কিন্তু আমাদের ওই গরুর ওপরই। কোরবানির বাজারে আশানুরূপ দাম পাওয়ার লক্ষ্য থাকে আমাদের। সে অনুযায়ী আমরা ফার্মিংয়ের পরিকল্পনা করি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর বলেন, এবার চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। প্রস্তুত রয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি পশু।
পূর্বতারা/ইউডি