দীর্ঘ এক বছর ১৭ দিন পর মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই ট্রলার ভিড়েছে টেকনাফ স্থলবন্দরে। শুক্রবার (০১ মে) দুপুর ১ টা ১০ মিনিটে মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই একটি ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরের জেটি ঘাটে এসেছে।
এর মধ্য দিয়ে বন্দরে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। ট্রলারটিতে এসেছে চাম্পাফুল ও গর্জন প্রজাতির কাঠ। দীর্ঘদিন পর পণ্য আমদানি শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে বন্দরের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে।
টেকনাফ স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান জানান, এক বছর ১৭ দিন পর মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই একটি ট্রলার বন্দরে এসে পৌঁছেছে। চালানটিতে চাম্পাফুল ও গর্জন-এই দুই ধরনের মোট ৯৬৩ পিস কাঠ রয়েছে, যার আনুমানিক আমদানি মূল্য প্রায় ১৬ হাজার ১২০ ডলার। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসআইএস ইন্টারন্যাশনাল।
তিনি জানান, যেহেতু পহেলা মে থেকে পুনরায় পণ্য আমদানি শুরু হয়েছে, তাই ভবিষ্যতে ধারাবাহিকভাবে পণ্য আসবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান অনুসরণ করে দ্রুত পণ্য খালাস এবং রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
বন্দর ব্যবসায়ী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর টেকনাফ বন্দরে পণ্যবাহী ট্রলার আসায় বন্দর এলাকায় প্রাণ ফিরেছে। এতে দেশের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং টেকনাফবাসীর জন্য এটি গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, বন্দর চালু হওয়ায় হাজারো শ্রমিক ও দিনমজুরের জীবিকা আবার সচল হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশের জন্য রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, সারাদেশেই বৈধ ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব, যা অবৈধ ব্যবসা প্রতিরোধেও সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, কিছু কারণবশত টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল, তবে বর্তমানে তা পুনরায় চালু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নৌপরিবহন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরের পর সবাই মিলে বন্দরটি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।