বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

কর্ণফুলীতে অরক্ষিত বেড়িবাঁধে আতঙ্কে উপকূলবাসী, কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৪

১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছে হাজারো পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বাঁধের কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।

জুলধা ইউনিয়নের ডাঙ্গারচরসহ উপকূলীয় এলাকায় প্রায় আড়াই হাজারের বেশি পরিবার এখনো ভাঙা ও অরক্ষিত বেড়িবাঁধের পাশে বসবাস করছে। বর্ষা মৌসুম এলেই নদী ও সাগরের জোয়ারে এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে, ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে কর্ণফুলীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ নিহত হয় এবং ডাঙ্গারচর এলাকায় একাই ৫ শতাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে। সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও উপকূলবাসীর মনে দাগ কেটে আছে।

উপকূল রক্ষায় ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স মোহাম্মদ এরফানুল করিম নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পর থেকে কাজ ফেলে রেখে প্রতিষ্ঠানটি উধাও হয়ে যায়। এরপর থেকে আর কোনো কাজ এগোয়নি।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম হৃদয় বলেন, নদী এখন ঘরবাড়ির খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। বাঁধের কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিনিয়ত ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো এলাকা।

এদিকে জানা গেছে, ২০১৮ সালে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে ৫৭৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হলেও এখনো জুলধা ও শিকলবাহা অংশে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়নি।

কর্ণফুলী উপজেলা প্রকৌশলী তাসলিমা জাহান জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং কাজ বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।

ভিডিও