চট্টগ্রামের রাউজানে একের পর এক ঘটছে খুনের ঘটনা। পুলিশের অভিযানে আটক কিংবা অস্ত্র উদ্ধারেও থামছে না সহিংসতার ঘটনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এখনও পর্যন্ত চট্টগ্রামের রাউজানে ২৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আর এসব ঘটনার পেছনে বালুমহাল দখল, পাহাড় কাটা, মাটি কাটা বা চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে দায়ী করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান।
জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল রাউজান এলাকায় খুন হন কাউসারুজ্জামান বাবলু (৩৬) নামে এক বিএনপি কর্মী। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর রবিবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নাছির উদ্দীন (৫৫) নামে আরও এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
এর আগে, গত প্রায় ২০ মাস ধরেই একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটে আসছে। কখনো প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে, আবার কখনো ছুরিকাঘাত বা পিটিয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে। আর এসব ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে রাউজানজুড়ে। আর এসব রোধে কঠোর ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান জানান, রাউজানে কিছু কিছু খুনের ঘটনা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। কিছু কিছু ঘটনা বালুমহাল দখল, পাহাড় কাটা, মাটি কাটা বা চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে। অপরাধ যে কারণেই ঘটুক, যারা অপরাধ করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
নাজির আহমেদ আরও বলেন, রাউজানের সর্বশেষ দুটি খুনের ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রধান সন্দেহভাজনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের কাজ চলমান। রাউজানে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসী এলাকা ছিল জঙ্গল সলিমপুর। আমরা তা সন্ত্রাসমুক্ত করেছি। আরো কয়েকটি এলাকা আছে, যেগুলো আমরা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করেছি। সেখানে আমরা গত রাত থেকে অভিযান পরিচালনা করছি। এ অভিযানের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে। এসব এলাকায় বেশ কয়েকটি চেকপোস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, আমরা দ্রুতই চট্টগ্রামের সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকাগুলোতে ব্যাপক আকারে অভিযান পরিচালনা করব। সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করতে আমাদের যা যা করতে হয়, তা আমরা করব। আমরা অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই গণ্য করি। গত রাত থেকে অভিযান শুরু করেছি। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপ চিহ্নিত করেছি। আমাদের একটু সময় দিন। সন্ত্রাসপ্রবণ যেসব এলাকা চিহ্নিত করেছি, সেখানে আমরা ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে মানুষের স্বস্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনব।
তিনি আরো বলেন, অপরাধীদের কোনো পরিচয় আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। অপরাধীকে একজন অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করি। সে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।