বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

লোহাগাড়া উত্তর পদুয়া উচ্চ বিদ্যালয়

টিনের সেমিপাকা ঘরেই চলছে ক্লাস

লোহাগাড়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১১

লোহাগাড়া উপজেলা উত্তর পদুয়া উচ্চ বিদ্যালয়। শ্রেণী কক্ষে ছাদ নেই, সেমিপাকা ভবনে টিনের ছাউনী। তীব্র তাপদাহের কষ্ট সয়ে ঘামেভেজা ক্লান্তি নিয়ে এ বিদ্যালয়ে ক্লাস করছে প্রায় ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী। এমন অবস্থায় বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিক উদ্দিন জানান, ১৯৯৬ সালে স্থানীয় কতিপয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তির উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।আর্থিক দূরাবস্থার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান এগুতে পারেনি। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিদ্যালয়টি বর্তমান অবস্থায় উন্নীত হয়।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে প্রায় ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এমপিওভূক্ত ১২ জন ও খন্ডখালীন ২ জনসহ ১৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়মিত পাঠদান করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ৫ জন কর্মচারীও রয়েছেন। ছাদবিহীন টিনের ছাউনীযুক্ত পৃথক ২ টি সেমিপাকা ভবনে চলছে পাঠদান। নেই পুস্তকাগার, বিজ্ঞানাগার ও ছাত্রীদের কমন রুম। শিক্ষার্থীদের খেলার জন্য একটি মাঠ রয়েছে। অপ্রতুল আসবাপত্রে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে হিমশিম খাচ্ছে।

তিনি জানান, অতীত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ২ টি ভবন বরাদ্দ হলেও দলীয় কোন্দলের নেতৃত্বের কারণে সেগুলো বাতিল করে অন্যত্র নেয়া হয়েছে। ফলে, বিদ্যালয়ের দুরাবস্থা লাঘব হয়নি। বিদ্যালয়ের সমস্যা নিরসনে সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

বিদ্যায়লের ১০ শ্রেণীর ছাত্র ইমতিয়াজ হোসেন রাজিব ও ছাত্রী উম্মে আসমাউল হোসনা বলে, ভবন ও আসবাপত্র সংকটে তারা খুবই কষ্টের মধ্যে ক্লাস করে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

স্থানীয় অভিভাবক সদস্য ডাঃ খোরশেদ বলেন, বিদ্যালয়টি অত্র এলাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভবন ও আসবাপত্র সংকটে বর্তমানে বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে তিনি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমানুল হক বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বরাদ্দকৃত ভবন দলীয় নেতৃত্বের কোন্দলে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সমস্যা রয়েই গেছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ভবন ও আসবাপত্র সংকটে দুর্ভোগের সম্মুখীন। তাই সমস্যাসমূহ নিরসনে তিনি সদাশয় সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নুরুল ইসলাম’র সহিত মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, উক্ত বিদ্যালয়ের ভবন ও আসবাপত্রের সংকট বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তিনি জেনেছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অতি কষ্টে ক্লাস করে যাচ্ছে। তাই বিদ্যালয়ের সমস্যাসমূহ দূরীকরণে তাঁর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

পূর্বতারা/ইউডি/মো. ইউছুপ

ভিডিও