চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চলে অপরিকল্পিত শিল্পায়নের কারণে সুপেয় পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, কর্ণফুলী ও পটিয়াসহ অন্তত ৫০টি গ্রামের মানুষ এখন মারাত্মক পানিসংকটে ভুগছেন। কোথাও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট গভীর নলকূপেও নিরাপদ পানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘেঁষে মিরসরাই এলাকায় একের পর এক শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক পানি উৎস হুমকির মুখে পড়েছে। শুধু এই উপজেলাতেই প্রায় ৫০টির মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। একইভাবে সীতাকুণ্ডে প্রায় ৫০০ শিল্পকারখানা ও জাহাজভাঙা শিল্পের চাপে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট গভীরতায় পানি পাওয়া যেত, এখন ৬০০ থেকে ৭০০ ফুটেও সুপেয় পানি মিলছে না। ফলে অনেক এলাকায় বাধ্য হয়ে দূষিত পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এদিকে কৃষিকাজেও দেখা দিয়েছে বড় সংকট। খাল-বিল ও পাহাড়ি ছড়া শুকিয়ে যাওয়ায় সেচ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি না পাওয়ায় অনেক এলাকায় চাষাবাদ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। অন্যদিকে কর্ণফুলী নদীতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে দিনে কয়েক ঘণ্টা পানি উত্তোলন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে নগরীতে দৈনিক প্রায় ১৪ কোটি লিটার পানির ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে চট্টগ্রামের গ্রামীণ অঞ্চলের পানি সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর কমে যাওয়ায় সেখান থেকে পর্যাপ্ত পানি ছাড়া হচ্ছে না। হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে জোয়ারের সময় তিনটি শোধনাগারে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা পানি সংগ্রহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। যার ফলে উৎপাদন ৬ কোটি লিটার কমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আশা করা যায় আগামীতে আমরা গ্রাহকদেরকে পর্যাপ্তভাবে পানি দিতে পারবো।