মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই সৃষ্ট ডিজেল সংকটে বিপাকে পড়েছেন বোয়ালখালী উপজেলার প্রান্তিক কৃষকেরা। খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি দামে জ্বালানি কিনে চালাতে হচ্ছে সেচ পাম্প। এতে বাড়ছে সেচ খরচ। একই ধারাবাহিকতায় বোরো ফসলের উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় চলতি বোরো মৌসুমে ফসলের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কিত কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার শাহানুর ইসলাম বলেন, এখন ধানের শীষ আসার সময়। শীষ আসার শুরু থেকে দানা শক্ত না হওয়া পর্যন্ত জমিতে ২-৩ ইঞ্চি পানি রাখতে হবে। এসময় পর্যাপ্ত পানি না দিলে ফলন কম হবে।
তিনি বলেন, বিক্ষিপ্ত ভাবে কৃষকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তারা বলছে, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সেচ পাম্প ব্যাহত হচ্ছে।বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে মনিটরিং করছি, যাতে কেউ জ্বালানি তেল মজুদ করতে না পারে। এছাড়া কৃষকরা যেন জ্বালানি তেল পান সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রবিবার (৫ এপ্রিল ) উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় বিলে ডিজেল চালিত পাম্পে সেচ দিয়ে শুকনো মৌসুমে ক্ষেতে বোরো ধান, সবজি ও ডাল জাতীয় ফসলের চাষ করা হয়। বোয়ালখালী উপজেলায় একমাত্র ফিলিং স্টেশন রয়েছে পূর্ব কালুরঘাটে। যা পূর্বাঞ্চল থেকে প্রায় ১২/১৫ কিলোমিটার দূরত্বে। এ উপজেলায় বেশিরভাগ কৃষিজমি ও বাগান রয়েছে পূর্বাঞ্চলে। ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি কিনে সেচ পাম্পে পৌঁছাতে বেড়ে যাচ্ছে পরিবহন খরচ। এমন অবস্থায় কৃষকেরা বাড়তি মূল্যে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে জ্বালানি কিনে সেচ চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।
শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের কৃষক মানিক বড়ুয়া জানান, এই সময় জমিতে সেচ না দিলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে। তাই সেচ পাম্প চালাতে তিনি খুচরা তেল বিক্রেতাদের কাছ থেকে ১৩০ টাকা দরে প্রতি লিটার ডিজেল কিনছেন। পাম্প থেকে কিনলে তা ১০০ টাকা দরে পাওয়া যেত।
আহলা করলডেঙ্গা, আমুচিয়া, সারোয়াতলী ইউনিয়নের কৃষক বেলাল হোসেন, জাকারিয়া, সিরাজুল ইসলাম, মাসুম, আবুল কালামের কণ্ঠেও একই সুর। তারা বলেন, কয়দিন পরই বোরো ধানের শীষ বের হবে। এই সময় জমিতে পানি থাকতেই হবে। পানি না থাকলে ফলন বাধাগ্রস্ত হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে বোয়ালখালীতে ১ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। ডিজেল চালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচ দিয়ে চাষাবাদ হয় ৪০০ হেক্টর জমিতে। সংশ্লিষ্ট জমিতে ডিজেল চালিত ১০টি এলএলটি পাম্প ও ১৯০টি ফ্যাকশনাল পাম্প সেচ কার্যক্রম চালাচ্ছে।
পূর্বতারা/ইউডি/ এম মনির চৌধুরী