বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

মিরসরাইয়ের কুমোরপাড়ায় বৈশাখী ব্যস্ততা

মিরসরাই প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৯

পহেলা বৈশাখ ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের কুমোরপাড়ায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। বৈশাখী মেলা উপলক্ষে মাটির তৈরি নানা ধরনের পণ্য তৈরিতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তারা। এখন দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের।

সরেজমিনে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছত্তরুয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাটি দিয়ে হাঁড়ি-পাতিল, কলস, শো-পিস, খেলনা, বাঁশি, ঘটি, ফুলদানি, পাখি ও বিভিন্ন নকশার মাটির সামগ্রী তৈরি করছেন। কেউ মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ সেই মাটি চাকে ফেলে নানা পণ্য বানাচ্ছেন। আবার কেউ খেলনা হাঁস, ঘোড়া, টিয়া, মাছ ও দোয়েল পাখির আকৃতির নানা পণ্য বানাচ্ছেন। পাশাপাশি কেউ কেউ তৈরি করছে মাটির ব্যাংক, মগ, গ্লাস, প্লেট, চায়ের কাপসহ নানা ধরনের ঘরোয়া ব্যবহার্য সামগ্রী।

কাউকে দেখা গেছে রোদ ও চুলায় দিয়ে পণ্যগুলো পাকাচ্ছেন। আবার কেউ বা তৈরি পণ্যে রঙের আলপনায় ফুটিয়ে তুলছেন নানা কারুকাজ। বৈশাখী মেলায় এসব মাটির পণ্যের চাহিদা বেশি থাকায় আগেভাগেই উৎপাদন বাড়িয়েছেন তারা। প্রতিকূলতার মধ্যেও শতবর্ষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে মৃৎশিল্পীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

কুমারপাড়ার বাসিন্দা মনিবালা পাল বলেন, এটা আমাদের বাপ-দাদার পেশা। তাদের দেখাদেখি পেটের তাগিদে আমরাও এই কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু যে পরিমাণ খরচ ও পরিশ্রম হয়, তাতে এখন আর তেমন লাভ থাকে না। প্রতি বছর বৈশাখী মেলা উপলক্ষে তাদের তৈরি মাটির পণ্যের বিক্রি বাড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজন পাল জানান, মৃৎশিল্পের প্রধান উপকরণ এঁটেল মাটি এখন সহজে পাওয়া যায় না। অনেক সময় দূর-দূরান্ত থেকে মাটি আনতে হয়, এতে খরচও বেড়ে যায় এবং নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। এছাড়া প্লাস্টিকসহ আধুনিক বিভিন্ন পণ্যের কারণে মাটির জিনিসের চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ, স্বল্পসুদে ঋণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সহায়তা দেওয়া হলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প আবারও নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘কুমারপাড়ার উন্নয়ন বা সহায়তা চেয়ে যোগদানের পর লিখিত কোনো আবেদন পাইনি। আবেদন পেলে এবং আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে মাটির সংকটসহ বিরাজমান সমস্যাসমূহ নিরসনের জন্য চেষ্টা করবো।

পূর্বতারা/ইউডি/ আজমল

ভিডিও