বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ডোবা থেকে উদ্ধার হওয়া মৃত হাতির শাবকটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন ভেটেরিনারি চিকিৎসকরা।
শাবকটির মরদেহের ময়নাতদন্তকারী কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হাতির শাবকটিকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে শাবকটির মাথায় ও শরীরের কয়েকটি স্থানে আঘাতের ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। শাবকটির শরীরের ভেতরে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যায়নি। ক্ষতচিহ্ন দেখে মনে হয়েছে, দূর থেকে ছোড়া শক্ত কোনো বস্তু বা পাথরে শাবকটি মাথায় আঘাত পেয়েছে।
ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আহত শাবকটির মাথার যন্ত্রণা লাঘব এবং পানি খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে মা হাতি তাকে ডোবায় নিয়ে গিয়েছিল হয়ত।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বটতলা মুসলিমপাড়া এলাকার একটি ডোবা থেকে হাতির শাবকটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মারা যাওয়া শাবকটির বয়স দুই মাসের মতো।
গত মঙ্গলবার হাতির শাবকটির মরদেহ অগভীর ডোবাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় শাবকটির পাশে মা হাতি এবং দলের এক পুরুষ হাতিকেও দেখা যায়। শাবকটির মরদেহের কাছে ওই দুটি হাতি তিন দিন ধরে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে ছিল। এই দৃশ্য দেখে অশ্রুসিক্ত হন স্থানীয় মানুষ আর বন বিভাগের কর্মকর্তারা। তিন দিন পর শোকার্ত মা হাতি ও পুরুষ হাতিটি ডোবার কাছ থেকে সরে গেলে শাবকটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মনিরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নবজাতক হাতির মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কক্সবাজারের রাজারকুল রেঞ্জ কর্মকর্তা এবং লামা-নাইক্ষ্যংছড়ির রেঞ্জ কর্মকর্তা যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছেন।
পূর্বতারা/ ইউডি