টানা ভারি বর্ষণে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় তরমুজের খেতে পানি জমে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নিচু জমিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, আবাদ হওয়া জমির প্রায় ২০ শতাংশ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলার ইছাখালী, মিঠানালা ও সাহেরখালি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, তরমুজ ক্ষেতের অনেক অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। পাকা, আধাপাকা ও কাঁচা তরমুজ পানিতে ডুবে থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক কৃষক সেচের মাধ্যমে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কেউ হতাশ হয়ে খেতের পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এ বছর হিঙ্গুলী, ওসমানপুর, ধুম, ইছাখালী, মিঠানালা ও সাহেরখালি ইউনিয়নে প্রায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে আসা কৃষকরা জমি ইজারা নিয়ে এখানে ব্যাপকভাবে তরমুজ চাষ করেছেন। তাদের দেখাদেখি স্থানীয় কৃষকরাও এই চাষে যুক্ত হয়েছেন।
সুবর্ণচরের কৃষক মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, গত বছরের সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে এবারও প্রায় ১২০ একর জমিতে গ্লোরি জাম্বু, বেঙ্গল কিং, ড্রাগন কিং ও গ্রিন ড্রাগন জাতের তরমুজ আবাদ করেছেন। তার সঙ্গে প্রায় ২০ জন অংশীদার রয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে তাদের পুরো বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
মিঠানালা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হাই বলেন, ৩০ লাখ টাকা খরচ করে ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফলন আগেই কম ছিল। এখন বৃষ্টিতে পানি জমে সব নষ্ট হওয়ার পথে। মূলধন তুলতেই পারব কি না সন্দেহ।
আরেক কৃষক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, আর এক-দুই দিনের মধ্যেই তরমুজ কাটার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিই সব শেষ করে দিল। এখন দেনা শোধ নিয়ে চিন্তায় আছি।
এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, হঠাৎ ভারি বৃষ্টিতে তরমুজ ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ২০ শতাংশ জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেসব তরমুজ পেকে গেছে, দ্রুত বাজারজাত করতে পারলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।