বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

উখিয়ায় ৩২০০ লিটার এসিড জব্দ

মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছে পাচার হচ্ছে এসিড

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪২

বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত দিয়ে মায়ানমারে পাচার হচ্ছে রাসায়নিক পদার্থ এসিড। সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় চক্রগুলোর যোগসাজশে এসব এসিড আরাকান আর্মিসহ (এএ) বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছে চলে যাচ্ছে। পাচারকৃত এসিড ইয়াবা,আইস এবং বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে ধারণা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে কক্সবাজারের উখিয়া পালংখালী সীমান্তে মজুদ করা ৩২০০ লিটার এসিড জব্দ করেছে পুলিশ ও র‌্যাব যৌথদল।

শুক্রবার পালংখালী বাজারের দক্ষিণ স্টেশন এলাকার জাকারিয়া (আলছমি) মার্কেটের নিচতলার একটি ভাড়া দোকান থেকে এসব এসিড জব্দ করা হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ এসিড জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জব্দকৃত রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’ এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী এবং র‍্যাব-১৫-এর একটি আভিযানিক দল তল্লাশি চালায়। এ সময় আক্তার হোসেন (৩২) নামে এক ব্যক্তির ভাড়া নেওয়া গুদাম থেকে আনুমানিক ৩ হাজার ২০০ লিটার এসিড জব্দ করা হয়। এসব এসিড ৩০ লিটারের ১০০টি জেরিকেনে সংরক্ষিত ছিল।

অভিযানের সময় আক্তার হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। পরে সংবাদ পেয়ে উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শুভ পাল সঙ্গীয় ফোর্সসহ জব্দকৃত আলামত হেফাজতে নেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে দোকানটির শাটার নামিয়ে তালাবদ্ধ করা হয় এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল হক (৩৮) ও গ্রাম পুলিশ হোছন আহমদের জিম্মায় রাখা হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষার জন্য একটি ৩০ লিটারের কন্টেইনার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া এসিডের মালিক আক্তার হোসেন, পালংখালী আঞ্জুমানপাড়া এলাকার মৃত আবু বক্করের ছেলে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, এসব রাসায়নিক দ্রব্য মায়ানমারে চোরাপথে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে এসব রাসায়নিক এনে গোপনে মায়ানমারে পাচার করা হচ্ছিল। রাতের বেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার মাধ্যমে নিয়মিত এসব মালামাল সরিয়ে নেওয়া হতো বলেও জানান তারা।

মার্কেটের মালিক মো. জাকারিয়া বলেন, আক্তার হোসেন আমার কাছ থেকে দোকানটি গুদাম হিসেবে ভাড়া নিয়েছেন। তারা কী রাখেন, সে বিষয়ে আমার জানা ছিল না।

ভিডিও