মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার প্রবাসী ও তাদের পরিবারগুলোর ওপর। চলমান হামলা ও অস্থিরতায় উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন উপজেলার কয়েক হাজার রেমিট্যান্সনির্ভর পরিবার। এরই মধ্যে এক সপ্তাহে দুই সন্দ্বীপ প্রবাসীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মিসাইল, ড্রোন ও বিমান হামলার ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও হামলার খবর আসায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে।
সন্দ্বীপ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে কাজ করেন। এসব দেশে চলমান অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে তাঁদের কর্মক্ষেত্রেও।
গত এক সপ্তাহে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কর্মরত অবস্থায় মারা গেছেন সন্দ্বীপের দুই প্রবাসী। নিহতরা হলেন— বাহরাইনে কর্মরত মহসীন তারেক এবং কুয়েতে কর্মরত জাহেদ হোসেন। এছাড়া বাহরাইনে নাজিম নামের আরেক প্রবাসী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত দুজনই ছিলেন তাঁদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁদের মৃত্যুর খবরে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোক ও অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ছুটিতে দেশে এসে অনেক প্রবাসী আটকে পড়েছেন বলেও জানা গেছে।
সন্দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার অধিকাংশ পরিবারই কোনো না কোনোভাবে প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। প্রবাসে কর্মরত সন্দ্বীপবাসীদের পাঠানো অর্থই অনেক পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
এদিকে সংঘাতের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানে কাজের সময়ও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাহরাইন ড্রাইডকে কর্মরত সন্দ্বীপের প্রবাসী নুর হোসেন বেলাল জানান, আগে যেখানে প্রতিষ্ঠানটিতে ২৪ ঘণ্টা কাজ চলত, সেখানে এখন পরিস্থিতি বিবেচনায় দিনে মাত্র আট ঘণ্টা কাজ করা হচ্ছে।
রমজান মাস চলাকালে সামনে ঈদুল ফিতর। এ সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে প্রবাসীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের আর্থিক সংকট বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বজনরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসী ও তাঁদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়বে।