‘শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিছি। কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা চাই আমাদের উচ্ছেদ করা না হয়। উচ্ছেদ করলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।’— এমনটাই বললেন ভোট দিয়ে বের হয়ে আসা বৃদ্ধ রফিকুল ইসলাম। বলছি, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকার এক বাসিন্দার কথা।
এ এলাকায় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ, দখল-বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আলোচনায় থাকা এই এলাকায় ভোটের দিন ছিল তুলনামূলক শান্ত ও স্বাভাবিক পরিবেশ।
দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত জঙ্গল সলিমপুরের এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে নারী-পুরুষের পৃথক সারিতে ভোটাররা শৃঙ্খলাভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। কেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের উপস্থিতি থাকলেও কোনো বিশৃঙ্খলার চিত্র চোখে পড়েনি।
এসময় ভোট দিয়ে বের হয়ে আসা বৃদ্ধ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিছি। কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা চাই আমাদের উচ্ছেদ করা না হয়। উচ্ছেদ করলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।’
নারী ভোটার আনোয়ারা বেগম জানান, সকাল আটটায় ভোট দিতে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এলাকায় শান্তি চাই। কে বৈধ, কে অবৈধ— এসব বুঝি না। সরকার যেন আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই কেড়ে না নেয়।’
রোকিয়া বেগম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘ভোট দিতে আসার আগে কিছুটা ভয় কাজ করছিল। তবে কেন্দ্রে এসে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হয়েছে।’
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ সাঈদ জানান, এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৭ হাজার ১১৬ জন। বেলা ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১ হাজার ১১৬টি। তিনি বলেন, ‘শুরুতে কিছুটা আতঙ্ক থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ চলছে।’
কেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকা সীতাকুণ্ড থানার এসআই ইদ্রিস আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর এখানকার মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারছেন। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’