চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল সেটি ছিল মূলত এলএনজিবাহী (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) স্ক্র্যাপ জাহাজ। এলএনজি পরিবহনে ব্যবহার হওয়া এসব স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংকে কিছু গ্যাস থেকেই যায়। তাই এসব জাহাজি কাটার আগে নিরাপত্তার স্বার্থে গ্যাসমুক্ত করা জরুরি। তবে এই স্ক্র্যাপ জাহাজটি কাটার আগে গ্যাসমুক্ত করা হয়নি বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।
আর গ্যাসমুক্ত না করে জাহাজ কাটার কারণে ট্যাংক থেকে লিকেজ হওয়া বিষাক্ত গ্যাসে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিষাক্ত গ্যাসের ক্রিয়ায় ৮ জন নিহত হয়েছেন।
আজ শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামের একটি কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে যে জাহাজ কাটা হচ্ছে, সেটি এলএনজি পরিবহন করত। এ জাহাজের কিছু কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকতে পারে। এ ধরনের জাহাজগুলো আগে গ্যাসমুক্ত করে তারপর কাটতে হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করে কাটার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও খুবই দুর্বল ছিল।

এদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসময় মন্ত্রীকে স্ক্র্যাপ জাহাজটি কাটার আগে সেখানে গ্যাসের অস্তিত্ব পরীক্ষায় ইন্সপেকশন করা নিয়ে ওঠা অভিযোগ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনার তদন্ত করা হবে। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে নিরপেক্ষ তদন্ত করা। এখানে পক্ষে বিপক্ষে কিছু নেই। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে তার পরিপ্রক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। শিপইয়ার্ডটিতে কমপ্লায়েন্সের কোনো অভাব ছিল কি না ? কোনো নেগলিজেন্সের (অবহেলা) কারণে ছিল কি না ? সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে তদন্তের মাধ্যমে এসব তথ্য বের করে এনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
পূর্বতারা/ইউডি