লাঠির আঘাতে বাবা মোহাম্মদ শাহজাহানের মৃত্যুর পর গোপনে ওমান পালিয়ে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হয়েছেন ছেলে বোরহান উদ্দিন শওকত।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে বোরহানকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অভিযুক্ত শওকত ওমানপ্রবাসী। কিছুদিন আগে ছুটিতে দেশে এসে পারিবারিক কলহের জেরে সে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। আমাদের কাছে তথ্য ছিল সে আবারও ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ইমিগ্রেশন পুলিশকে জানানো হলে তাদের সহায়তায় বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইতোমধ্যে তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। সেখান থেকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বোরহান উদ্দিন শওকত ওমান প্রবাসী। কিছুদিন আগে তিনি দেশে এসেছেন। দেশে এসে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। পরে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে আসেন। বোরহান উদ্দিন শওকতের গ্রামের বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কোকদণ্ডী নিদা গাজী পাড়া। ১০ আগস্ট রাতে বিয়ে মেনে না নেওয়া এবং বাড়ি নির্মাণের ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এতে শওকতের বোন রুবি আক্তারও জড়িয়ে পড়েন।
মোহাম্মদ শাহজাহান তার মেয়েকে চড়-থাপ্পড় দিলে অসাবধানতাবশত তা গিয়ে পড়ে নতুন বিবাহিত পুত্রবধূর গায়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শওকত লাঠি দিয়ে বাবার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। মারাত্মক আহত অবস্থায় শাহজাহানকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে তিনি মারা যান।
ঘটনার পর নিহত শাহজাহানের বোন লাকী আক্তার বাদী হয়ে বোরহান উদ্দিন শওকত ও তার বোন রুবি আক্তারকে আসামি করে বাঁশখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর শওকত আত্মগোপনে চলে যান এবং ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
পূর্বতারা/ইউডি