,

 

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : 31 July 2026, 10:44

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যাওয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, দুই দেশ অবিলম্বে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। নতুন ও আধুনিক প্রক্রিয়ায় যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা হবে। বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহ নাগাদ বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যাওয়া শুরু হতে পারে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর সব খাতেই বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ তৈরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগে মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, শ্রমবাজার চালু হওয়ার পর কর্মীদের সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিদেশ যাওয়ার জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। একই সঙ্গে দালাল ও অসাধু চক্রের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রথম ধাপের কর্মী নিয়োগে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়া সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। তার ভাষ্য, অভিবাসন ব্যয় কমানো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন কোন বেসরকারি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান যুক্ত হবে, সেটিও যাচাই-বাছাই করে নির্ধারণ করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মালয়েশিয়ার কাছে পাঠানো ৪২৩টি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে বর্তমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মালয়েশিয়া নিজস্ব যাচাই ও কাঠামোর ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, যারা অতীতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি কিংবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের নতুন তালিকায় স্থান না দেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও হাইকমিশনের মাধ্যমে খুব শিগগিরই শ্রমবাজার চালুর কারিগরি কার্যক্রম শুরু হবে। কর্মী নিয়োগ ও বিদেশ যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশি কর্মীরা যেন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পান, সে জন্য মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনকে আরও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশে চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকরা। তাদের শ্রম মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে।

বিগত কয়েক বছর শ্রমবাজার বন্ধ থাকার পেছনে অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে দায়ী করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে বাজারটি পুনরায় চালুর পথ তৈরি হয়েছে।

ভিডিও