চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের পর এখন প্রশ্ন উঠেছে—আসনটিতে নতুন নির্বাচন হবে, নাকি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার আপিল বিভাগ ঋণখেলাপির অভিযোগে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে রায় দেন। এর ফলে তিনি আর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আদালত যেভাবে নির্দেশ দেবেন, আমরা সেভাবেই ব্যবস্থা নেব। নতুন করে নির্বাচন করার নির্দেশ দিলে তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ এলে সেটিও বাস্তবায়ন করা হবে।”
তিনি জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে কমিশন সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে আসলাম চৌধুরী ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তবে আদালতের নির্দেশে তার ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছিল। একই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিকী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট পান।
আদালতের রায়ের পর এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি আসনটিতে নতুন ভোটগ্রহণ হবে।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় না দেখে এর পরিণতি সম্পর্কে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে উপনির্বাচন বা নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিকীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, প্রচলিতভাবে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী অযোগ্য হলে পরবর্তী সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় এবং নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-৪ আসন এবং চট্টগ্রাম-২ আসনের নির্বাচিত দুই প্রার্থীর শপথ এখনো আইনি জটিলতায় আটকে আছে। চট্টগ্রাম-২ আসনের বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।