দলে পদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে মদের বারে নিয়ে কুপ্রস্তাব ও হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ও চট্টগ্রামের নেত্রী সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে।
আজ শুক্রবার নগরীর কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন ডেকে এমন অভিযোগ করেন নারী শক্তি’র পদপ্রত্যাশী ওই তরুণী।
সংবাদ সম্মেলনে তরুণীর অভিযোগ , ১৪ জুন সন্ধ্যা ৬ টার সময় নারীশক্তি নিয়ে আলোচনা ও পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে সাদিয়া আমাকে নগরীর পেনিনসুলা হোটেলের বারে সুজার কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে সুজা ‘মদ্যপ অবস্থায় আমাকে অস্বস্তিকর প্রস্তাব দেন। সেখানে আমাকে যৌন হয়রানি, ভয়ভীতি দেখানো এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার জন্য প্ররোচিত করা হয়। সেখানে সুজা উদ্দিনের সাথে সাদিয়াসহ আরও দুজন পুরুষও ছিলেন।’
তরুণী জানান, তিনি সেখানে বসার পর সুজা তাকে ধূমপান ও ড্রিংকসে উৎসাহিত করেন। সুজাকে এ সময় তার কাছে মদ্যপ মনে হয়েছে। আমি এসময় অস্বস্তিবোধ করলে সাদিয়া আমাকে ‘সুজা উদ্দিনের কথামত চলার’ জন্য চাপ দেন। কিছুক্ষণ পর সাদিয়া সেখান থেকে বেরিয়ে যান। এরপর সুজা কয়েকবার আমাকে তার পাশে গিয়ে বসার জন্য বলেছেন। তার তাকানো এবং অঙ্গভঙ্গি ছিল যথেষ্ট আপত্তিকর, অশালীন ও যৌন হয়রানিমূলক।’
তরুণী বলেন, ‘আমি যখন প্রস্তাবে সাড়া দিইনি, তখন সুজা উদ্দিন আমাকে বলেন— ডিল অর ডেথ। রাজনৈতিক সুবিধা, পদ-পদবি এবং আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলে আমাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন।’
হোটেল থেকে বেরিয়ে আমি সাদিয়াকে কল দিয়ে এমন ঘটনার প্রতিবাদ করি। তখন সাদিয়া তাকে বলেছেন, ‘রাজনীতি করতে হলে বড় পদ-পদবিধারীদের পার্সোনাল সময় দিতে হয়। এটাই রাজনৈতিক কালচার।’
এদিকে, সংবাদ সম্মেলন চলাকালে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় উপস্থিত হন। সংবাদ সম্মেলন আয়োজনকারীদের এ নিয়ে কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের মুখে পড়েন রিদুয়ান হৃদয়। তিনি বলেন, হোটেলের বারে ভালো মানুষও যায়, খারাপ মানুষও যায়। মন্ত্রী-এমপিও যায়, হাজার কোটি টাকার মালিকও যায়। সুজা ভাইয়ের সঙ্গে তার শ্যালক এবং একজন বন্ধুও সেখানে ছিলেন। শ্যালকের সামনে তিনি মদ খাবেন আর কোনো মেয়েকে যৌন হয়রানি করবেন, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?’
হৃদয় আরও বলেন, এনসিপি থেকে বহিষ্কৃত একজন এই মেয়েটিকে দিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। অনেকেই চান না সুজা ভাইয়ের রাজনীতি শক্তিশালী হোক। কেন্দ্রীয় নেতারাও তার পেছনে লেগেছেন।’
এ ঘটনায় সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের নাম উল্লেখ করে গত ১৭ জুন চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানিয়েছেন অভিযোগকারী তরুণী।
পূর্বতারা/ইউডি