চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদেরকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। শনাক্তকৃতরা পুলিশের খাতায় লাল দাগ মার্কা সন্ত্রাসী। পুলিশের দাবি, এসব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে রাউজান,রাঙ্গুনিয়াসহ নগরীর বিভিন্ন থানায় ডজন ডজন মামলা রয়েছে। এদেরকে খুঁজছে পুলিশ। তবে এমন পুলিশি তৎপরতার মাঝেও এরা কিভাবে পুলিশের চোখের সামনে একের পর এক অপরাধ করে বেড়াচ্ছে- সেটিই এখন প্রশ্ন ?
রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রায়হান বাহিনীর সদস্যরা মাকসুদুল হক হত্যা মিশনে অংশ নেয়। তারা হলো– রাউজানের কদলপুরের মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে দামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার, রাউজান পৌরসভার ফরেস্ট অফিস এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফ, রাউজান সদর ইউনিয়নের পূর্ব রাউজান এলাকার মোহাম্মদ জাহেদ ও মোহাম্মদ আবছার। এর মধ্যে ইলিয়াস ও দিদারুল প্রথমে মাকসুদুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে তাকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়ে।
রাউজান থানা পুলিশ সূত্রে যানা যায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের বিরুদ্ধে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও নগরীর বিভিন্ন থানায় ১২টি হত্যাসহ ২৪টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী দামা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ৫টি হত্যাসহ ১৮টি মামলা রয়েছে। ইউসুফের বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ চারটি মামলা রয়েছে রাউজান থানায়। দিদার, জাহেদ ও আবছারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একধিক মামলা রয়েছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুনিদের শনাক্ত করা হয়েছে। সবাই রাউজানের বাসিন্দা। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে শনাক্ত করা গেলেও পুলিশ এখনো এই পাঁচজনের কারো টিকি খুঁজে পায়নি। সন্দেহজনক হিসেবে গতকাল রোববার এক দোকানিকে ধরে এনেছে পুলিশ। তাঁর নাম মুহাম্মদ জাকির (৪২)। হত্যা মামলা না হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।
তবে যুবদল নেতা মাসুদুল হক হত্যার ঘটনায় দুইদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো মামলা দায়ের হয়নি। নিহতের ভাই বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বলেন, মাসুদের দাফন প্রক্রিয়া রোববার শেষ হয়েছে। শিগগিরই মামলা দায়ের করবেন তারা।
পূর্বতারা/ইউডি