বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

এনসিটি ইজারা নিয়ে ফের উত্তাপ চট্টগ্রামে

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ০৪:৫৩

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ চাউর হওয়ায় ফের উত্তাপ ছড়াচ্ছে চট্টগ্রামে। এরই মধ্যে এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

জানা গেছে, গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান স্কপের নেতারা। পরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন তারা। চট্টগ্রাম স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারী এস কে খোদা তোতনের সভাপতিত্বে এবং ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা এনসিটি বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার দাবি জানান।

এদিকে এসিটিতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শ্রমিক দল নেতা ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে জানান, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্দর ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান এখনো আছে। পুরো বিষয়টি তুলে ধরে আমরা সরকারের কাছে একটি চিঠি দিচ্ছি। সরকার যদি আমাদের মেসেজ বুঝতে না পারে, তাহলে আন্দোলন শুরু হবে। যে দলই সরকারে থাকুক, দেশের স্বার্থে বন্দরকে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারী তথা চট্টগ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামবেন বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, গত ৪ জুন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-১ অধিশাখা থেকে জারি করা দুটি চিঠির তথ্য প্রকাশ পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। একই তারিখ ও একই স্মারক নম্বরে জারি করা চিঠি দুটির দুই ধরনের ও পরস্পরবিরোধী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথম চিঠিতে বলা হয়, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান নেগোসিয়েশন এগিয়ে নিতে হবে, অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটির কোনো আগ্রহ না থাকলে পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

একই স্মারক নম্বরের অন্য চিঠিতে বলা হয়, নৌপরিবহনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হলো। একই বিষয়ে একই সময়ে দুটি ভিন্ন ও বিপরীতধর্মী নির্দেশনা আসার পর বন্দর প্রশাসন ও বিভিন্ন মহলে কৌতূহল ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রশ্ন তুলছেন, এনসিটি পরিচালনা নিয়ে সরকারের প্রকৃত ও চূড়ান্ত অবস্থান আসলে কোনটি?

এদিকে সম্প্রতি বিএনপি সরকারের দুজন এমপির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও এনসিটির সাবেক অপারেটর মিলে তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়াম যৌথভাবে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালটি পরিচালনার আগ্রহ দেখিয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এ প্রস্তাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ে বন্দরকে বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়েও চলছে নানামুখী আলোচনা।

এর আগে, চলতি বছরের শুরুতে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে বন্দরজুড়ে আন্দোলন গড়ে ওঠে। সে সময় চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও স্কপের আন্দোলনের মুখে বন্দর কার্যক্রমে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে টার্মিনালটি বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, এনসিটি নিয়ে একাধিক পক্ষের প্রস্তাব পেয়েছি। তবে আইন ও বিধি মানতে হবে আমাদের। দেশের স্বার্থটাও দেখতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন বলেন, মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সেটিই বাস্তবায়ন করব।

ভিডিও