চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় নবনির্মিত একটি সেতুর সংযোগ সড়কের একাধিক স্থানে উদ্বোধনের আগেই ধস দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফারেঙ্গা সড়কে গিয়ে দেখা যায়, নবনির্মিত ১৮ মিটার সেতুর উভয় পাশে সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের পাশের অংশ ভেঙে নিচে নেমে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুনতি ফারেঙ্গা সড়কটি পার্বত্য লামা উপজেলাসহ আশপাশের এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রায় তিন মাস আগে থেকেই সেতুটি দিয়ে আংশিকভাবে যাতায়াত শুরু হয়। সম্প্রতি বৃষ্টিপাতের পর দক্ষিণ পানত্রিশা ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় সংযোগ সড়কের একাধিক স্থানে ধস দেখা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক নির্মাণে পর্যাপ্ত মাটি সংরক্ষণ, ঢাল সুরক্ষা এবং পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে বৃহত্তর চট্টগ্রাম পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প–৩ এর আওতায় চুনতি ফারেঙ্গা সড়কে ১৮ ও ১৬ মিটার দুটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায় কন্সুলেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির ব্যয় ছিল প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।
স্থানীয় বাসীন্দা রেজাউল বাহার রাজা বলেন, সেতুটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আশা-ভরসার ফল। কিন্তু নিমার্ণকাজে যথাযথ মান রাখা হয়নি। সংযোগ সড়কের কাজের ত্রুটি থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে একাধিক স্থানে ধস দেখা গেছে। নিম্নমানের কাজের কারণে উদ্বোধনের আগেই আগেই এমন পরিস্থিতি দৃশ্য দেখা যায়। এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিধি শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ ও ছোট-খাটো যানবাহন চলাচল করে। সেতুটি চালু হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ হবে। কিন্তু সংযোগ সড়কের বর্তমান অবস্থা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জানে আলম বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কের একাধিক স্থানে ধসে যাওয়ার বিষয়টি উপজেলা এলজিইডি অফিস ও কাজের ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিনিধি আল আমিন বলেন, একটি সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ার বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে অবগত হয়েছি। ধসে পড়া স্থানে পুনরায় সংষ্কার করে দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লোহাগাড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ-বিন-মাহমুদ জানান, ব্রিজের একাধিক স্থানে ধসে পড়ার বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। ঠিকাদারের কাজের বরাদ্দে টাকা এখনো উত্তোলন করেনি।
তিনি বলেন, ধসে পড়া স্থানগুলো যদি ঠিক করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। যদি ঠিকাদার ধসে যাওয়া অংশ সংষ্কার করে না দেন তাহলে বিল পাবে না।