বিশ্বকাপ ফুটবল জ্বরের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই এই জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে । হামের মাতামাতি প্রতিরোধে এই নতুন জ্বরটিই এখন টনিক হিসেবে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ফুটবল জ্বরে ভুগছেন ভক্তরা। জ্বর কমাতে কেউ গায়ে জড়াচ্ছেন পছন্দনীয় দলের জার্সি। কেউ বাড়ির ছাদে, করিডোরে, জানালার ফোকরে টাঙিয়েছেন প্রিয় দলটির বাহারি পতাকা।
সমর্থকদের কেউ কেউ দলের পতাকা বসিয়ে রেখেছেন অফিসের টেবিলে। রিকশা থেকে প্রাইভেট কার সবখানেই এখন পতপত করছে প্রিয় দলের পতাকা। চট্টগ্রাম শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি সবখানেই পতাকার ওড়াওড়ি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, দোকানপাট, বাড়ির ছাদ, বারান্দা, অফিস ও বিভিন্ন যানবাহনেও উড়ছে নানান দেশের পতাকা। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকাই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। তবে এর পাশাপাশি স্পেন,ফ্রান্স, সৌদিআরব,সেনেগাল, আরব দেশের পতাকাও উড়তে দেখা যাচ্ছে। পুরো চট্টগ্রাম যেন এখন পতাকাময় হয়ে উঠেছে।
লম্বা বাঁশে বিভিন্ন দেশের পতাকার পসরা সাজিয়ে সকাল বেলাতেই জামালখান খাস্তগীর স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে গেছেন আজগর আলী। বাড়ি তার ফেনীর দাগনভূঁইয়া। বললেন, এখন বিশ্বকাপের সিজন। সিনেমা প্যালেস থেকে আমরা পাইকারিতে পতাকা কিনি। তারপর হেঁটে বিক্রি করি। চাহিদা ও সাইজ ভেদে পতাকার দাম। আর্জেন্টিনা,ব্রাজিলের পতাকার দাম একটু বেশি। স্কুলের টাইমে এখানে ভিড় বেশি। নানা বয়সি মানুষের আনাগোনা এখানে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সববয়সি লোকজন পতাকা কিনছে।
তিনি আরও যোগ করেন, কাকা পতাকা কিনতে পয়সা লাগে না। মনের জোশ্ লাগে। সময়ে ১০০ টাকার পতাকা লোকে ৩’শ টাকায়ও কিনে। তিন ফুটের চায়না পতাকা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঁচ ফুটের পতাকা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশীয় কাপড়ের পতাকার দাম তুলনামূলক কম। ডেইলি আমার দেড় হাজার/দুই হাজার টাকার মত বিক্রি হচ্ছে। এতে ৫০০/৬০০ টাকার মত লাভ থাকে।
বিশ্বকাপ ফুটবেলে এই মৌসুমে সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পতাকা তৈরির কারিগররা। চট্টগ্রাম নগরীর সিনেমা প্যালেস থেকে লালদিঘী পাড় পর্যন্ত বিভিন্ন টেইলারিং দোকানে এখন পতাকা তৈরির ধুম চলছে। কারিগরদের নাওয়া খাওয়ারও ফুরসত নেই । রাতদিন বিরতি নেই সেলাই মেশিনে। পায়ের চাপে বিরামহীন গতিতে ঘুরছে মেশিনের চাকা।
লালদিঘীর পাড় লয়েল রোড এলাকার টেইলার্স ফেনীর আবু হামিদ বলেন, এখন ফুল সিজন। একা পারতাছি না। তাই পরিবারের সদস্যদেরকেও কাজে লাগাচ্ছি। আমি ফেনী,কুমিল্লা দেবীদ্বার,কক্সবাজার,কুতুবদিয়া,টেকনাফ, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পাইকারিতে পতাকা সাপ্লাই দিছি। কোয়ান্টিটি কম হইলে তৈরির খরচ একটু বেশি। আবার কোয়ান্টিটি বেশি হইলে খরচ কম পড়ে।
পূর্বতারা/ইউডি