চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোগী ও মরদেহ পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নতুন করে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। আজ সোমবার (৮জুন) চমেক হাসপাতাল সম্মেলন কক্ষে রোগী ও লাশ পরিবহন নীতিমালায় বর্ণিত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া পুনর্মূল্যায়ন-সংক্রান্ত এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভাড়া পুনর্নির্ধারণের এই সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে।
সিদ্ধান্তে চমেক হাসপাতাল থেকে নগর এলাকায় ১০ কিলোমিটার (যাওয়া-আসা) দূরত্বে ১১৪৪ টাকা। দূরবর্তী ৪৫ কিলোমিটার (যাওয়া-আসা) ৩৫৭৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। নিকটতম উপজেলা এলাকায় ( যা্ওয়া-আসা ১২ কি.মি) ছোট গাড়ি ২৩৮৪ টাকা, বড় গাড়ি ২৪৩৬ টাকা করা হয়েছে। আর দূরবর্তী উপজেলায় (১৩৪ কি.মি) ৪৮২৭ টাকা (ছোট) ও (বড় গাড়ি) ৫৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবার সমিতির বহির্ভুক্ত অন্যকোন অ্যাম্বুলেন্সও হাসপাতালে ঢোকানো যাবে না- সমিতি নেতৃবৃন্দের এ দাবিও মেনে নিয়েছে চমেকহা কর্তৃপক্ষ।
এমন অবস্থায় সচেতন মহলের প্রশ্ন উঠেছে , নতুন করে বৃদ্ধি করা ভাড়ার এ হার কি বাস্তবে মানা হবে ? নাকি সিদ্ধান্তের অজুহাতে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের ভাড়া নৈরাজ্য আরও একধাপ প্রমোশন পেল ?
এ ব্যাপারে বৈঠকে উপস্থিত চমেকহা পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ রেট সবাইকে মানতে হবে। কোন অ্যাম্বুলেন্স চালক না মানলে, অতিরিক্ত ভাড়া নিলে এর বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককেই জবাবদিহি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বাইরের গাড়ি হাসপাতালে আনতে পারবেন না রোগীরা। তাদের এ দাবি মানা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে তা যাওয়া-আসা দূরত্বে। এখন থেকে আর রোগী হয়রানি করা যাবে না। রোগী হয়রানির অভিযোগ আসলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইউসুফ বলেন, আমাদের দাবি ছিল ৫০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করা। এখন মোটর যন্ত্রপাতি, জ্বালানির তেলের দাম বেড়ে গেছে। এর সাথে একটি অ্যাম্বুলেন্সের রক্ষণাবেক্ষণে নানামুখী খরচ রয়েছে। তবে বৈঠকে গৃহিত সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে।
রোগী পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্সে বাড়তি ভাড়া দাবিকে কেন্দ্র করে গতকাল রোববার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির লোকজনের ধস্তাধস্তি হয়েছে। এ সময় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পূর্বতারা/ইউডি