চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ইছাপুর ফয়েজিয়া বাজার সংলগ্ন হাজারী খালে অভিযান চালিয়ে অবৈধ দখলকৃত অংশ উদ্ধার করেছে প্রশাসন। প্রভাবশালী চক্র খাল দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করে রেখেছিল। অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে খালের দখলকৃত অংশ উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ আরমান বলেন, “হাজারী খালসহ কোনো সরকারি খাল, জলাশয় বা ভূমি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে খালের দখলকৃত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। উচ্ছেদ-পরবর্তী স্থানে কেউ পুনরায় স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেখল ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হাজারী খাল এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র খালের অংশ বিশেষ ভরাট করে সেখানে পাকা বহুতল ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ দখল ও নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হয়। খাল রক্ষার দাবিতে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত স্মারকলিপিও দেয়া হয়। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে খালের ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা জানান, খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারত। এতে করে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে যাতে কেউ পুনরায় খাল দখলের চেষ্টা করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পূর্বতারা/ইউডি/ এমডি এ এইচ