পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটি শেষে আবারও কর্মচাঞ্চল্যে ফিরতে শুরু করেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। সরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বন্দরে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন হাজারো চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ।
সোমবার (১ জুন) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চট্টগ্রাম রেলস্টেশন, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন পরিবহন কেন্দ্রে যাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েকদিন ধরেই ফিরতি যাত্রা শুরু হলেও ছুটি শেষ হওয়ায় সোমবার নগরে ফেরা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে কর্মজীবীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরছেন। মঙ্গলবারও সড়ক ও পরিবহন কেন্দ্রে যাত্রীদের চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে প্রায় এক সপ্তাহের ছুটি শেষে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরেও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। যদিও সরকারি ছুটির পুরো সময়জুড়েই বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম চালু ছিল, তবে আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের চাহিদা কম থাকায় কনটেইনার ডেলিভারি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এমনকি ঈদের দিন ২৪ ঘণ্টায় একটি কনটেইনারও ডেলিভারি হয়নি।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ আল আমিন জানান, সোমবার থেকে কাস্টম হাউসের শুল্কায়নসহ সব ধরনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে। ছুটির সময়ও বিশেষ ব্যবস্থায় কাস্টমসের একটি অংশ খোলা রাখা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম বন্দরের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ঈদের ছুটিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ তিনটি পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করেছিল। এসব টিম বহির্নোঙরে পণ্য খালাস, জেটিতে কনটেইনার ওঠানামা, ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা এবং বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেছে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের মতে, দীর্ঘ ছুটির সময় অধিকাংশ শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় আমদানিকারকেরা সাধারণত পণ্য ডেলিভারি গ্রহণ করেন না। ফলে ঈদের আগে বেশি সংখ্যক চালান খালাস করা হয় এবং ছুটির মধ্যে ডেলিভারি কমে যায়।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ধারণক্ষমতা ৫৯ হাজার টিইইউস। সোমবার সকাল পর্যন্ত বন্দরে সংরক্ষিত কনটেইনারের সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩৭৬ টিইইউস, যা ধারণক্ষমতার তুলনায় স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, ছুটি শেষে সরকারি ও বেসরকারি অফিস খুললেও প্রথম কর্মদিবসে কর্মচাঞ্চল্য কিছুটা কম ছিল। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় সময় কাটাতে দেখা গেছে। ব্যাংকিং কার্যক্রমও শুরু হয়েছে, তবে দিনের প্রথমভাগে গ্রাহক উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল।
উল্লেখ্য, ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি ছিল। ছুটি শেষে নগরজুড়ে স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা ফিরতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।