বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুরে ক্যাম্প ভাঙ্গার ইন্ধনদাতারা চিহ্নিত হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬, ১২:৩৩

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে রাষ্ট্রের ভিতরে এক ধরণের ‘দুর্বৃত্তের রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছিল। এখানে সন্ত্রাসীরা সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিভিন্ন পাহারা বসিয়ে রাষ্ট্রের সমান্তরাল একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে তারা তথ্য পেয়ে যেত। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তথ্য ফাঁস হয়ে যেত।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে র‍্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার মতো দুঃসাহস সন্ত্রাসীরা কীভাবে পেল—তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এর পেছনে থাকা ভূমিদস্যু ও মূল ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।

রোববার (৩১ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি নতুন কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আপাতত এই এলাকা থেকে কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না। জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজিসহ সকল ধরণের অপকর্ম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করবে সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি বা রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে এক ধরনের ‘দুর্বৃত্তের রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছিল, যার একটি প্রত্যক্ষ নমুনা হচ্ছে এই জঙ্গল সলিমপুর। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চট্টগ্রামে কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যায়। কিছু ব্যবসায়ীর বাসভবনে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গুলি বর্ষণ এবং চাঁদা আদায়ের মতো ঘটনা ঘটার পর সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয়। অপরাধীদের অবদমন করতে গত ৯ মার্চ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, দেশের কোথাও অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে কেন্দ্র করে চলমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকার পর্যবেক্ষণ করছে বলেও তিনি জানান।

পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও