বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

হাটে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও বেচাকেনা কম, শেষ সময়ের আশায় খামারি-বেপারিরা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০৬:৫৬

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলোতে এবার পর্যাপ্ত গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার সরবরাহ থাকলেও এখনো বেচাকেনা আশানুরূপভাবে শুরু হয়নি। হাটে ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই পশু না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। ফলে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনার অপেক্ষায় রয়েছেন খামারি ও বেপারিরা।

সোমবার (২৫ মে) নগরের সাগরিকা, বিবিরহাটসহ বিভিন্ন পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকে ট্রাকে কোরবানির পশু এসেছে। হাটগুলোতে পশুর ভিড় ও ক্রেতাদের ঘোরাফেরা থাকলেও কেনাবেচার গতি তুলনামূলক ধীর। বিক্রেতাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতার সংখ্যা কম এবং যারা আসছেন তারা দাম শুনেই পিছিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকেই খাামর থেকে গরু কিনে নিচ্ছেন। এতে করে হাটের বেচা কমেছে।

সাগরিকা হাটের খামারি আবদুল কাদের বলেন, গো-খাদ্য, ওষুধ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় পশুর দামও বেড়েছে। সেই অনুযায়ী দাম চাইতে হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতারা দাম শুনেই চলে যাচ্ছেন। একই ধরনের অভিজ্ঞতা জানান আরেক বিক্রেতা সেলিম। তিনি বলেন, এখনো ঈদের কয়েক দিন বাকি আছে। আশা করছি শেষ সময়ে বেচাকেনা বাড়বে।

অন্যদিকে কিছু ক্রেতা এখনই কিনতে না গিয়ে শেষ মুহূর্তে কম দামে পশু পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন। এতে হাটে তৈরি হয়েছে এক ধরনের স্থবিরতা। যদিও আগের তুলনায় সোমবার বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। বিক্রেতাদের আশা, ছুটিতে সবাই ফিরলে শেষ সময়ে বিক্রি আরও বাড়তে পারে।

বিবিরহাট বাজারের ইজারাদারের প্রতিনিধি সামির আহমেদ, গত কয়েক দিনে কেবল উত্তরবঙ্গ থেকেই কয়েক হাজার গরু এই বাজারে প্রবেশ করেছে। বাজারের মূল সামিয়ানার ভেতরে প্রায় ১৫০০ গরু বাঁধার সুনির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে, তবে সরবরাহ এত বেশি যে মূল সীমানা ছাড়িয়ে বিবিরহাট, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, বশর মার্কেট এলাকা এবং রেলবিট এলাকা পর্যন্ত কয়েক হাজার গরু লাইন ধরে রাখা হয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার বিবিরহাটের মূল ‘বাজার বার’ বা প্রধান দিন হওয়ায় আজ সকাল থেকেই বাজারে পশুর চাপ ও ক্রেতার ভিড় দুটোই বেড়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর জানিয়েছেন, কোরবানি উপলক্ষে এবার চট্টগ্রাম জেলার নগর ও উপজেলাজুড়ে মোট ২১২টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সরাসরি ব্যবস্থাপনায় ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে নগরের ভেতরে রয়েছে ৩টি স্থায়ী এবং ৭টি অস্থায়ী পশুর হাট।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এ বছর জেলায় স্থানীয়ভাবে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৬ হাজার ৫৩৪টি কম। এছাড়া এ বছর ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি ছাগল মোটাতাজা করা হয়েছে; গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫১ হাজার ৭৪টি। মহিষ উৎপাদন কমে হয়েছে ৪৭ হাজার ৮৩৪টি, যেখানে গত বছর ছিল ৬৪ হাজার ১৬৩টি। একইভাবে ভেড়ার সংখ্যাও কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৪২৩টিতে, যা গত বছর ছিল ৫৫ হাজার ৬৯৭টি।

ভিডিও