ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে জমতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু, ছাগল, মহিষসহ অন্যান্য কোরবানির পশু বাজারে আনছেন ব্যবসায়ীরা। সিটি কর্পোরেশনের স্থায়ী ও অস্থায়ী ৬ পশুর হাট ছাড়াও নগরীর অলিগলি ও খামারগুলোতে চলছে গরু বেচা-কেনা। তবে প্রাথমিক অবস্থায় বেচাবিক্রি কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
সরজমিনে নগরীর মুরাদপুরের বিবিরহাট ও সাগরিকা পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, বাজারে সরবরাহ থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় কম। চট্টগ্রামে এবারের ঈদুল আজহার জন্য চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার পশুর ঘাটতি থাকলেও বিপুল পরিমাণ পশু দেখা গেছে হাটে। তবে আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার পশুর দাম বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
জলিল আহমেদ নামে এক পশু বিক্রেতা বলেন, এবার খাদ্য, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ সবকিছুই বেড়েছে। তাই পশুর দাম কিছুটা বেশি হচ্ছে। আমরা ন্যায্য দাম চাইছি, লোকসান দিয়ে বিক্রি করা সম্ভব না। হাটে আসা শামীম হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, গরুর দাম গত বছরের তুলনায় একটু বেশি মনে হচ্ছে। তাই আমরা বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখছি, তারপর কিনব। ঈদের জন্য ভালো পশু দরকার, কিন্তু বাজেটও দেখতে হচ্ছে।
এদিকে পশুর হাট ছাড়াও নগরের ২ নম্বর গেইট, বহদ্দারহাট অক্সিজেনসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বাসাবাড়িতে এবং স্থানীয়ভাবে গরু বিক্রি করতে দেখা গেছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি এগ্রো ফার্মগুলোতেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
অক্সিজেন এলাকায় জারিয়া এগ্রো ফার্ম-এর মালিক তৌহিদুল আলম দুলাল বলেন, এখনও বেচাকেনা জমে ওঠেনি। কোরবানির সপ্তাহখানেক আগে পুরোদমে কোরবানির পশুর বেচাকেনা শুরু হয়। কারণ ওই সময় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-বোনাস পান। পাশাপাশি অফিস-আদালত বন্ধ হলে ক্রেতাসমাগম আরও বাড়ে। তবে টুকটাক বেচাকেনা হচ্ছে। অনেকে টাকা পরিশোধ করে গরু ফার্মে রেখে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলায় এ বছর স্থানীয়ভাবে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৬ হাজার ৫৩৪টি কম।
এ বছর স্থানীয়ভাবে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি ছাগল মোটাতাজা করা হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫১ হাজার ৭৪টি। এ বছর ৪৭ হাজার ৮৩৪টি মহিষ মোটাতাজা করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৬৪ হাজার ১৬৩টি। গত বছর ৫৫ হাজার ৬৯৭টি ভেড়া স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হলেও এ বছর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৪২৩টিতে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, এবার খামার পরিচালনা খরচ বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে চট্টগ্রামে গবাদিপশুর উৎপাদন কমেছে। তবে অন্যান্য জেলায় উৎপাদন প্রচুর বেড়েছে। ওইসব এলাকা থেকে চট্টগ্রামে প্রতিবছর গরু আসে। তাই এবার চট্টগ্রামে উৎপাদন কমলেও কোরবানিতে পশু সংকট হবে না।