লোনা বাতাস, নীল সমুদ্রের ঢেউ আর একান্ত নির্জনতার অনুভূতি চট্টগ্রামের পারকি পরুয়াপাড়া ফুলতলী সমুদ্রসৈকত। এই সৈকত ধীরে ধীরে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই এখানে ভিড় বাড়ছে তরুণ-তরুণীসহ নানা পর্যটকের। তবে সম্ভাবনাময় এই সৈকতে স্পিডবোটের ভাড়া নৈরাজ্য আর বাইকার বিড়ম্বনা এখন বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে, এই সমুদ্রসৈকতে পর্যটক বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে স্পিডবোট ও মোটরসাইকেলের নৈরাজ্য। স্পিডবোটের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, জোরপূর্বক আসন পূর্ণ করা এবং চরম নিরাপত্তাহীনতার মতো নানা হয়রানি ও নৈরাজ্যে অতিষ্ঠ পর্যটকরা। এসব বিষয়ে সৈকতে ব্যক্তি মালিকানাধীন গড়ে উঠা রাজ কুটির কর্তৃপক্ষকে পর্যটকরা একাধিকবার জানিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় স্পিডবোট, বিচ ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল নৈরাজ্যের সিন্ডিকেটের কবলে তারাও যেন অসহায়।
সৈকতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা হালিশহরের এসএম আলমগীর বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পারকি সমুদ্র সৈকত থেকে স্পিডবোটের মাধ্যমে ফুলতলী সমুদ্র সৈকতে আসি।বোটে নিরাপত্তার জন্য কোনো লাইফ জ্যাকেট ছিলো না। এখানে এসে সৈকতের কাদামাটির মধ্যে নামিয়ে দিয়েছে আমাদের। এখানে এসেই পড়েছি আরেক বিপাকে। সৈকতে বিচ ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্যে সন্তানদেরকে নিয়ে হাঁটাও যাচ্ছে না।
এদিকে পর্যটকদের সুবিধার্থে সৈকতে নির্মাণ করা হয়েছে ব্রিজ। কিন্তু ওই ব্রিজ ব্যবহার করে সৈকতে অবৈধভাবে রাখা স্পিডবোটের আড়ালে মাদক পাচার করছে একটি অসাধু চক্র। এছাড়া বাড়ছে বকাটেদের উৎপাত। এতে বিপন্ন হয়ে পড়েছে সৈকতের পরিবেশ। মাদকসহ অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধে রাজ কুটির কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে তাদেরকে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
আরও অভিযোগ, ফুলতলী সমুদ্রসৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশের স্থায়ী চৌকি নেই। তাছাড়া এখানে পুলিশি টহলও নিয়মিত নয়। এমন অবস্থায় যেকোন মুহুর্তে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পর্যটকরা।
বাইক ভাড়া নিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার পর্যটক সাইফুদ্দিন রানা বলেন, ‘এক ঘণ্টার জন্য ভাড়া নিয়েছিলাম ৩০০ টাকা দিয়ে। কিন্তু এক ঘণ্টা হওয়ার আগেই আমার কাছ থেকে বাইক নিয়ে ফেলে। আবার ৭০০ টাকা দাবি করে। পরে বাধ্য হয়ে ৫০০ টাকা দিয়েই আসতে হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্পিট বোটের মালিক মোহাম্মদ ইমরান হোসাইনের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি গাড়িতে আছেন এবং পরে কথা বলবেন বলে কল কেটে দেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবরার সালেহ বলেন, এসব নিবন্ধনহীন স্পিড বোটে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য নেই লাইফ জ্যাকেট। সৈকতের চরে বেপরোয়া ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের কারণের প্রায় সময় দুর্ঘটনা। এতে করে পর্যটকরা আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসলেও অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় এক প্রকার আমরা অসহায়। দ্রূত প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে ফুলতলী সমুদ্র সৈকত পর্যটক হারাবে।
এবিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিন উদ্দিন জানান,এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি।বিস্তারিত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্বতারা/ইউডি