শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ওমানে ৪ ভাই নিহতের ঘটনায় রাঙ্গুনিয়ায় শোকের ছায়া

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০৩:৪৯

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ওমানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের স্বজনরা বলছেন, এটি একটি রহস্যজনক দুর্ঘটনা। এ ঘটনায় তারা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাঙ্গুনিয়ার লালানগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। যে বাড়িতে আজ উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন চার লাশের অপেক্ষা। অসুস্থ মা ফরিদা বেগমকে এখনো ছেলেদের মৃত্যুর খবর পুরোপুরি জানানো হয়নি। পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা ভাই এনাম শোকে বাকরুদ্ধ।

পরিবারের সদস্যরা বলেন, নিহতদের মধ্যে কেউ কেউ কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কথা ছিলো বাড়িতে বিয়ের সানাই বাজবে। আনন্দঘন প্রস্তুতির মাঝেই এমন শোকাবহ ঘটনা তাদের জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে অসুস্থ বড় ভাই রাশেদকে চিকিৎসক দেখাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকার একটি ক্লিনিকে গিয়েছিলেন বাকি তিন ভাই শাহেদুল, সিরাজ ও শহিদ। সিরিয়াল পেতে দেরি হওয়ায় তারা গাড়ির ভেতর এসি চালিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ গাড়ি লক থাকা অবস্থায় এসির বিষাক্ত কার্বন-মনোক্সাইড গ্যাস ভেতরে ছড়িয়ে পড়লে তারা অচেতন হয়ে পড়েন।

মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগমুহূর্তে এক ভাই তার বন্ধু পারভেজকে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় সেই আর্তনাদ ছিল— “পারভেজ তুরা কোথায়? আমার বদ্দাকে (বড় ভাইকে) ডাক্তারের কাছে এনেছি, এখন আমরা গাড়ি থেকে নামতে পারছি না… আমাদের চারজনকেও নিয়ে যাও…।” কিন্তু সাহায্য পৌঁছানোর আগেই নিভে যায় চার সংগ্রামী রেমিট্যান্স যোদ্ধার প্রাণ।

ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর রাফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মরদেহগুলোতে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বর্তমানে মরদেহগুলো ওমান পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ শেষে আগামী রোববার বা সোমবারের মধ্যে মরদেহগুলো দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভিডিও