চট্টগ্রামে বিরল এক মস্তিষ্ক-সংক্রমণজনিত রোগ জাপানিজ এনকেফালাইটিস নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বর, মাথাব্যথা ও খিঁচুনি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি, কারণ এটি দ্রুত স্নায়ুতন্ত্রে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছয় মাসের এক গবেষণায় ৭৫ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ৩ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবে রোগ নির্ণয়ের পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সুবিধার সীমাবদ্ধতায় চিকিৎসকদের কাজ কিছুটা জটিল হয়ে পড়ছে।
চিকিৎসকদের মতে, জাপানিজ এনকেফালাইটিস সাধারণত কিউলেক্স প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এসব মশা বুনো শুকর ও পাখির মাধ্যমে ভাইরাস বহন করে এবং পরে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটায়। গুরুতর অবস্থায় এটি মস্তিষ্কে ছড়িয়ে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং কোমার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোমেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. হাসানুজ্জামান বলেন, জ্বরের সঙ্গে শরীরে অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিউরোলজি বিভাগে যেতে হবে।
গবেষণায় শনাক্ত রোগীদের উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তারা সুস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে।
গবেষক ও চিকিৎসক ডা. আসিফুল হক জানান, এমআরআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের সন্দেহ পাওয়া গেছে এবং তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তারা চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়েছেন।
এদিকে দেশের কয়েকটি কেন্দ্রে এই ভাইরাস শনাক্তের ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এখনো সরকারি হাসপাতালের পরীক্ষার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত দেশে এই রোগ প্রতিরোধে টিকা থাকলেও বাংলাদেশে এখনো তা চালু হয়নি, ফলে সচেতনতা ও দ্রুত রোগ শনাক্তকরণই প্রধান প্রতিরোধ ব্যবস্থা।