বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আমানতকারীদের অবস্থান

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৬ মে ২০২৬, ১২:২৫

জমানো টাকা উত্তোলন, লেনদেন স্বাভাবিক ও হেয়ার কাট বাতিলের দাবিতে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলানোর পর এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছে আমানতকারীরা। গত কয়েকদিন ধরে পাঁচটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে আমানতকারীদের চলমান কর্মসূচি এখন বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত চলে এসেছে।

বুধবার সকালে (৬ মে) চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি মোড় সংলগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম শাখা কার্যালয়ের সামনে আমানতকারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। বাংলাদেশ ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন’র ব্যানারে গ্রাহকরা এই কর্মসূচি পালন করছেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

আমানতকারীরা প্রথমে নিউমার্কেট মোড়স্থ দোস্ত বিল্ডিংয়ের সামনে মানববন্ধন করেন । তারপর সেখান থেকে ব্যানার সহকারে মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন তারা।

একপর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ে যান আমানতকারীদের কয়েকজন প্রতিনিধি। তাঁরা তিন দফা দাবি আদায়ে স্মারকলিপি দেন। দাবিগুলো হলো—টাকা ফেরতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকা।

আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের টাকা দিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বেতন চলে। কিন্তু তাঁরা আমানতকারীদের নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করছেন। আমরা তাঁকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য করার আগে ভেবে দেখতে হবে। আজ আমরা ৫ হাজার হলে, কাল ৫০ হাজার হব।’

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের এক আমানতকারী বলেন, আমি ডায়াবেটিক রোগী, কিডনি সমস্যা আমার। টাকার জন্য আমি ডায়ালেসিস পর্যন্ত করাতে পারছি না। ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে আমার টাকা আছে। আমি ৩৫ বছর বিদেশে ছিলাম। ব্যাংকগুলো যে আমাদের টাকা আত্মসাৎ করে ফেলছে তখন বাংলাদেশ ব্যাংক কোথায় ছিল ? দায়ভার বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই। স্বাভাবিক লেনদেন চাই।

এক্সিম ব্যাংকের আমানতকারী সুমন অধিকারী বলেন, আমাদের টাকা আমরা তুলতে পারছি না। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ চাচ্ছি। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আমাদের দুষ্কৃতকারী বলছেন। আমরা এই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। ঋণখেলাপিদের না ধরে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম করছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে পাঁচটি ব্যাংক বড় লোকসান করেছে। ব্যাংকগুলো হল- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এ জন্য আমানতকারীরা এই দুই বছরের জন্য তাঁদের আমানতের বিপরীতে কোনো মুনাফা পাবেন না। আন্তর্জাতিক রীতি মেনে আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফা ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোতে ৭ থেকে ৯ শতাংশ মুনাফার আমানত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে ৭৫ লাখ আমানতকারীর প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। তার বিপরীতে এসব ব্যাংকের ঋণ রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ ইতিমধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও