বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

আগ্রাবাদে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শাখায় তালা

আমার টাকা ব্যাংকে, আমি কেন রাস্তায় ?

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৪ মে ২০২৬, ১১:৫৪

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পর এবার আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ আমানতকারীরা। একীভূত পাঁচটি ব্যাংক হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

ব্যাংকগুলো থেকে টাকা উত্তোলনসহ ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন চালু রাখা ও হেয়ার কাট বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমানতকারীরা এই কর্মসূচি পালন করেছেন।

সোমবার (৪ মে) সকালে আগ্রাবাদ আখতারুজ্জামান সেন্টারের সামনে আমানতকারীরা প্রথমে মানববন্ধন করে। পরবর্তীতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা আগ্রাবাদের এক্সিম ব্যাংক শাখায় গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর সেখান থেকে ইউনিয়ন ব্যাংকে যান তারা। ইউনিয়ন ব্যাংকের ওই শাখাটিতে গিয়ে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেন। পরবর্তীতে বিক্ষোভকারীরা আগ্রাবাদ এলাকায় একীভূত অন্য তিনটি ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছে।

এক আমানতকারী বলেন, দেশবাসী আপনারা সচেতন হোন। এ ব্যাংকগুলো অসৎ। তারা আজ আমাদেরকে টার্গেট করেছে। কাল আমাদেরকে টার্গেট করবে। আমাদের টাকা নিয়ে তারা পালিয়ে গেছে।

আরেক নারী আমানতকারী বলেন, আমরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে আসলে ব্যাংকের ম্যানেজার পালিয়ে গেছে। উনি পালিয়ে যাবেন কেন? পালিয়ে গেলেও আমাদের দাবি পূরণ করতে হবে। আমরা অনেক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করেছি। অনুরোধ করেছি। অনুনয় বিনয় করেছি। আর হবে না এদের সাথে।

অপর এক গ্রাহক বলেন, আমার ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে প্রায় দেড় কোটি টাকা আছে। জমি অধিগ্রহণ বাবদ রেলওয়ের কাছ থেকে এই টাকা আমরা পেয়েছি। এখন আমাদের টাকা আমরা লাভও পাচ্ছি না। আসলও পাচ্ছি না। ব্যাংকের কর্মচারীরা মাসে মাসে বেতন পাচ্ছে। আরামে আয়েসে পরিবার চালাচ্ছে। আর আমরা টাকা থাকা সত্ত্বেও পরিবার চালাতে পারছি না। ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছি না। এটা কি বাংলাদেশ ?

আগ্রাবাদ এক্সিম ব্যাংকের অপারেশন অফিসার মো. সালাউদ্দিন জানান, আমরা গ্রাহকদেরকে দুই লাখ বা তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দিচ্ছি। এখন উনারা বিক্ষোভ করছেন। আমাদের দৈনিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। আমরা হেড অফিসের সাথে কথা বলে গ্রাহকদেরকে সিদ্ধান্ত জানাব।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে পাঁচটি ব্যাংক বড় লোকসান করেছে। ব্যাংকগুলো হল- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এ জন্য আমানতকারীরা এই দুই বছরের জন্য তাঁদের আমানতের বিপরীতে কোনো মুনাফা পাবেন না। আন্তর্জাতিক রীতি মেনে আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফা ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোতে ৭ থেকে ৯ শতাংশ মুনাফার আমানত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে ৭৫ লাখ আমানতকারীর প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। তার বিপরীতে এসব ব্যাংকের ঋণ রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ ইতিমধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও