চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আলোচনা উঠেছে। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংসদে জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তুক্ষেপ চান চট্টগ্রাম-১০ আসন সাংসদ সাঈদ আল নোমান এমপি।
সাঈদ আল নোমান বলেন, চট্টগ্রামের বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। এই মুহুর্তে মানুষ পানিতে ভাসছে। সাধারণ মানুষ যাদের বাসা ছিল না, তারা আক্ষরিক অর্থে গলা পানিতে ভাসছে। চট্টগ্রাম নগরের মানুষ ভেবেছে এই সমস্যার কোনদিন সমাধান হবে না। আমাদের মানবিক প্রধানমন্ত্রী । তিনি সবসময় মৌলিক জায়গায় হাত দেন। চট্টগ্রামের জন্য যদি প্রথম একটি কাজ করতে হয়, তাহলে জলাবদ্ধতার সমস্যাকে নিরসন করতে হবে। আমাদের দেশি এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে এমন একটি ব্যবস্থা অন্তত কয়েক বছরের মধ্যে দাঁড় করাতে হবে। কেননা মানুষ আমাদেরকে ভোট দিয়ে বারবার সংসদে পাঠায়, নেতা জনপ্রতিনিধিদের উপর ভরসা করে।
তাঁর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যা সারা দেশের একটি সমস্যা। সাংসদ চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার কথা বলেছেন। দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কথা বলেছেন। এই বিষয়ে একজন রাজনীতিবিদ একজন বিশেষজ্ঞ ছিলেন। উনি হচ্ছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যিনি সমগ্র বাংলাদেশে খাল খননের মাধ্যমে একদিকে পানির রিজার্ভার তৈরি করেছিলেন। অন্যদিকে বন্যা বা জলাবদ্ধতাও দূর করেছিলেন। বর্তমান সরকার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি।
তিনি আরও বলেন, শহরেও এটি করা সম্ভব। শহরাঞ্চলে যেসব খাল-নালা রয়েছে সেখানে জনসাধারণ অসচেতনভাবে প্লাস্টিকের বোতল,পলিথিন বা ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট করে ফেলছে। সরকার এগুলো পরিস্কার করছে। তবে সাত থেকে দশ দিনের মধ্যেই খাল নালাগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। প্লাস্টিক বা পলিথিনের ব্যবহার নিয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে। সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে অনেকাংশে এ সমস্যা কমানো সম্ভব। জনপ্রতিনিধিদেরকে স্ব স্ব অবস্থানকে দায়িত্ব নিতে হবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের (মেয়র) সাথে আমার কথা হয়েছে। উনি চেষ্টা করছেন। এখন এটা বড় ওয়াটার লগ হয়ে গেছে। স্বাভাবিক ভাবে সময় লাগবে। চট্টগ্রাম নগরের জনগণের এ দুর্ভোগের জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে দুঃখপ্রকাশ করছি। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে যাতে এই কষ্ট থেকে বের করে নিয়ে আসা যায়।
পূর্বতারা/ইউডি