চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকার আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওসমান গণি ওরফে মনা (৩৫) অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের একটি পাঁচতলা ভবনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভবনটির একটি নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে ওসমান গণি মনাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দখল ও হেফাজত থেকে বিপুল অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) রাসেল।
এ ব্যাপারে সোমবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওসমান গণিকে হাটহাজারী এলাকা থেকে বিপুল অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার সহযোগী ও চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে।
জেলা পুলিশ জানায়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের ধরতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এর অংশ হিসেবে তিন দিন আগে কাশেম নামের আরেক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরে ওসমান গণির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি তৈরি ৭.৬৫ বোরের পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন, তিনটি একনলা শর্টগান, ৭.৬৫ পিস্তলের ১১ রাউন্ড তাজা গুলি, রাইফেলের গুলি এবং ১৭ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ। এ ছাড়া দেশীয় ধারাল অস্ত্র হিসেবে চাপাতি ও সুইচ গিয়ার চাকু জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও অভিযানে নগদ ৫১ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন মডেলের একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের যোগাযোগ রক্ষা ও সমন্বয়ের কাজে ব্যবহৃত হতো। এসব মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও তথ্য বিশ্লেষণ করে তার সহযোগীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওসমান গণি অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া তিনি নিজেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন এবং তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় ছিল। এর মধ্যে একটি পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন রোকন উদ্দিন। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে এই দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বিভিন্ন সহিংস ঘটনার পেছনে এই দ্বন্দ্ব বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
পূর্বতারা/ইউডি