আগের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ দল। দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে সিরিজে ফিরেছিল। আর আজ শেষ ওয়ানডেতেও নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি ও মোস্তাফিজুর রহমানের ‘ফাইফারে’র সুবাদে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানেহারিয়ে ৩ ওয়ানডের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।
ওয়ানডেতে এটি বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক সিরিজ জয়। এর আগে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজরা।
মিরপুরের যে উইকেটে প্রথম দুটি ওয়ানডে হয়েছিল চট্টগ্রামের উইকেট ছিল তার চেয়ে আলাদা। এটিকে বলা হয়েছিল ব্যাটিং সহায়ক উইকেট। কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের আঁটসাঁট বোলিং বিশেষ করে ‘ফিজ’-এর নিউজিল্যান্ড ২১০ রানেই অলআউট।
লক্ষ্য তাড়ায় কিউইদের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ৮ রানে হেনরি নিকোলসকে তুলে নেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর উইল ইয়াং ও নিক কেলির ৪৬ রানের জুটি। উইল ইয়াংকে ফিরিয়ে এই জুটিও ভেঙেছেন ফিজ। চোটের কারণে সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডে খেলেননি। এই ম্যাচ দিয়েই মাঠে ফিরেছেন। আর ফেরার ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। ৪৩ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ম্যাচে তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ—৯-২-৪৩-৫।
তাঁর বোলিংয়ের সামনে কোনো কিউই ব্যাটারই সুবিধা করতে পারেননি। ৮০ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৯ রান করা নিক কেলিকেও ফিরিয়েছেন তিনি। ২টি উইকেট নিয়েছে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেওয়া নাহিদ রানা।
এর আগে টসে হেরে আগে ব্যাট করে নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি এবং লিটন দাসের ফিফটিতে ২৬৫ রান তোলে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ের বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য দুঃস্বপ্নের মতোই হয়েছিল। ৩২ রানের মধ্যেই সাইফ হাসান (০), তানজিদ হোসেন তামিম (১) ও সৌম্য সরকারকে (১৮) হারিয়ে ফেলেছিল স্বাগতিকেরা। এরপরই শান্ত ও লিটনের প্রতিরোধ। দেখে শুনে খেলতে থাকেন তাঁরা। শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে দলকে লড়ায়ের জন্য ভালো একটা পুঁজি পাওয়ার ভিতও গড়ে দেন তারা। চতুর্থ উইকেটে ১৭৮ বলে ১৬০ রান করেন তাঁরা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি।
লিটনের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। আউট হওয়ার আগে ৯১ বলে ৩টি চার ও ১টি ছয়ে ৭৬ রান করেন লিটন। সম্ভাবনা জাগিয়েও লিটন সেঞ্চুরি করতে না পারলেও রানের তিন অঙ্ক ছুঁয়েই মাঠ ছেড়েছেন শান্ত। ওয়ানডেতে দীর্ঘ সময়, ৭৭১ দিন পর সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি। লেনক্সের বলে স্মিথের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ১০৯ বলে ১০৫ রান করেন শান্ত। তাঁর ইনিংসটিতে আছে ৯টি চার ও ২টি ছয়।
শান্ত-লিটনের বিদায়ের পর ২৯ বলে ৩৩ রান করেন তাওহীদ হৃদয়। বল হাতে সবচেয়ে সফল উইল ও’রুর্ক; ৩২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন বেন লিস্টার ও জেডেন লেনক্স।